করোনার কারণে কেসিসির ১৭ ও ২৪ নং ওয়ার্ড লকডাউন ঘোষণা করা হয় ২১ দিনের জন্য। যা শেষ হয় ১৬ জুলাই। ডকডাউনে বন্ধ ছিল খুলনার অভিজাত বিপনী বিতান নিউ মার্কেট। পাশাপাশি বন্ধ ছিল দুই ওয়ার্ডের সকল ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে দুটি ওয়ার্ড জুড়েই সৃষ্টি হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। ঘরবিন্দ হয়ে থাকার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, জেলার চেয়ে মহানগরীতে করোনা পজিটিভের সংখ্যা বেশি। কারণ করোনা আক্রান্ত প্রধান এলাকা থেকে অনেকেই গোপনে এসে মহানগরীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নেন। ফলে মহানগরীর মানুষের মাঝে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ২৫ জুন পর্যন্ত মহানগরীতে আক্রান্ত ছিল মাত্র ১০৬৮ জন, মারা যায় ১২ জন। এক মাস পর এসে ২৫ জুলাই পজিটিভ সংখ্যা ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ দুইটি ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়। এর ফলে ওয়ার্ড দুটিতে করোনা পজিটিভের হার কমে আসলেও ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, করোনা শুরু থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনা জেলায় পজিটিভ হয়েছেন ৩৯৫০ জন। মারা গেছেন ৬০ জন। অথচ এক মাস আগে অর্থাৎ ২৫ জুন এ জেলায় করোনা পজিটিভ ছিল ১৩৫৮ জন। মারা যায় ১৮ জন।
মহানগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মুদি ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, করোনার মধ্যেও কোনও রকম বেচাকেনা করে সংসার খরচটা উঠছিল। কিন্তু লকডাউনের ২১ দিন দোকান খুলতে না পারায় চরম খারাপ অবস্থা গেছে। পুঁজি ভেঙে খেতে হয়েছে। এখন যে অল্প পণ্য সামগ্রী আছে তা দিয়েই দোকান পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুনভাবে পণ্য সামগ্রী তুলতে পারছি না।
১৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম জানান, তিনি কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী পড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়তে না আসায় কোনও বেতন পাচ্ছেন না। এর ফলে গত চার মাস ধরে চরম অর্থ সংকটে রয়েছেন। জমা টাকা ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে শিক্ষার্থীরাও কোচিংমুখী হবে না।
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, লকডাউনে মহানগরীর দুটি ওয়ার্ডের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক অর্থ সংকটে পড়েছেন। অনেকেই পুঁজি ভেঙে জীবনযাপন করেছেন। ফলে লকডাউনের পর প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলতে পারছেন না। মূলধনের কোনও জোগান পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ব্যবসার মন্দাভাব কেটে যাবে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের করোনা প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২৫ জুলাই পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৪৬১ জন এবং মারা গেছেন ১৯০ জন।