ড্রাগন চাষ করে লাখপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মো. আসাদ আলী। অন্য ফসলে লোকসানের পর নিজের প্রায় দেড় বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ড্রাগন ফলের বাগান। ড্রাগন চাষ লাভজনক হাওয়ায় তাকে দেখে অন্য চাষিরাও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সাত থেকে আট ফুট দূরত্বে কনক্রিটের তৈরি পিলারের চার পাশে ড্রাগন গাছ রোপন করেছেন তিনি। কনক্রিটের এসব পিলারের উপরে লোহার রডের সঙ্গে সাইকেলের পুরনো টায়ার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক গাছে ফলও আসতে শুরু করেছে।
উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের ড্রাগন চাষি মো. আসাদ আলী বলেন, আমার এই জমিতে প্রায় ৩০ বছর পানের বরজ ছিল। পানের বরজটি ভাইরাসের কারণে মারা যায়। ফলে আমি বেকার হয়ে পড়ি। প্রায় চার বছর আগে ঝিনাইদহের এক বন্ধু পরামর্শ দেয় ড্রাগন ফল চাষ করার জন্য। এরপর ঝিনাইদহের এক বাগানে বেশ কয়েকবার গিয়ে ড্রাগনের চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারি। পরবর্তীতে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করি।
ইতমধ্যে আমি ৪০০ টাকা কেজি দরে অল্প কিছু ফল বাজারে বিক্রি করেছি। বর্তমানে আমার বাগানে বেশ কিছু গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। ড্রাগন বিদেশি ফল হলেও বর্তমান বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা। স্বল্প কিছু ফলের পাশাপাশি ড্রাগনের চারা বিক্রি করেও আমার বাড়তি আয় হচ্ছে।
আসাদ আলী জানান, দুই বছর বয়সে একটি ড্রাগন গাছে পরিপূর্ণ ফল আসে। একটি পিলারে প্রতি বছরে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ফল পাওয়া সম্ভব। দুই বছরে একটি পিলারে থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল বিক্রি করে বছরে আমার ১২ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।
এ ফলের চাষ পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে জমি চাষ করতে হবে। চারা রোপণের কয়েকদিন পূর্বে ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করে জৈব সার দিয়ে দিতে হবে। এরপর হাফ ইঞ্চি কম মাটিতে চারা রোপণ করতে হবে। একটি পিলারে চারটি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করা যায়। এক পিলার থেকে অন্য পিলারের দূরত্ব হতে হবে সাত ফিট।
মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, ড্রাগন একটি পুষ্টিকর ফল। এবং এটি অনেক লাভজনক। হাজরাহাটি গ্রামের কৃষক আসাদ আলী পরীক্ষামূলক ভাবে দেড় বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ করে সফলতা পেতে শুরু করেছেন। আসাদের ড্রাগন ফলের চাষে সহায়তা জন্য ইতোমধ্যে কৃষি অফিস থেকে ওয়াটার পাম্প, পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি দেওয়া হয়েছে।