পুনর্বাসন প্রকল্প: প্রস্তাব-পুনঃপ্রস্তাব চলছে, নেই অগ্রগতি

পুনর্বাসন প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও  আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নসহ বহুমুখী লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা। একের পর প্রকল্প প্রস্তাব হলেও কোনও অগ্রগতি হচ্ছে না। ফলে প্রস্তাব পাঠানোর বছর যেতে না যেতেই টাকার অংক বাড়িয়ে পুনঃপ্রস্তাব করা হচ্ছে। দাকোপে উপকূলীয় পোল্ডার নং ৩১-এর পুনর্বাসন প্রকল্পে এ অবস্থা চলছে। সর্বশেষ প্রস্তাবটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফোজল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। 

দাকোপের জনপ্রতিনিধিদের আবেদনের ভিত্তিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ৩১নং পোল্ডার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ, স্থায়ী নদীর তীর প্রতিরক্ষা, নিষ্কাশন অবকাঠামো পুনর্বাসন, নিষ্কাশন খাল পুনঃখনন, নদী পুনঃখনন কাজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশনা দেন। ওই নির্দেশনা মোতাবেক খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পোল্ডার নং ৩১-এর পুনর্বাসন শীর্ষক প্রকল্প তৈরি করে। যা গত ২৭ জুলাই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ৩ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশন বাপাউবো বহির্ভূত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করে সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রণয়ন ও শুধু অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই কমিটি গত ২৪ নভেম্বর বাপাউ বোর্ডে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। যা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি বলেন, প্রথম প্রস্তাব করা ১২৪০ কোটি টাকার প্রকল্প যথায়ময়ে অগ্রগতি না হওয়া ও নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পটি পুনরায় তৈরি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার চালনা অঞ্চলে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১নং পোল্ডার। এই চালনা অঞ্চলেই উপজেলার বেশির ভাগ কার্যত্রম পরিচালিত হয়। এ পোল্ডার এলাকায় রয়েছে সোনালী ব্যাংক ভবন, কৃষি ব্যাংক ভবন, অগ্রণী ব্যাংক ভবন, রুপালী ব্যাংক ভবন, চালনা পৌরসভা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার বাসভবন, চালনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, একাধিক মসজিদ, মন্দির, ব্রীজ, কালভার্ট ও সড়কসহ নানা অবকাঠামো। এছাড়া চালনা বাজারের ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্রবন্দর অবস্থিত। যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মোংলা বন্দরের সঙ্গে রেলপথের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তবে মোংলা বন্দর হতে পণ্য পরিবহনে পশুর নদী চ্যানেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সঙ্গত কারণে এ রুটে চলাচলকারী কোস্টারের কারণে খরস্রোতা পশুর নদীর টেউ দু’পাড়ে আছড়ে পড়ে। বিধায় চালনা বাজারস্থ এলাকায় নদী ভাঙন সমস্যা প্রকট রূপ ধারণ করেছে। নদীর এ ভাঙন অব্যাহত থাকলে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও খালিশা ও চালনা বাজারস্থ অবকাঠামো ও মূল্যবান জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে উপজেলার পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত শিবসা নদীর বাম তীরে মোজাম নগর নামক স্থানও নদী ভাঙনের কবলে রয়েছে। ফলে এখানকার স্থাপনা হুমকীর মুখে পড়েছে। এছাড়া উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ফণী, বুলবুল এবং সর্বশেষ সংঘটিত সুপার সাইক্লোন আম্ফানের কারণে সৃষ্ট উচ্চ জোয়ারের কারণে পোল্ডার নং-৩১ এর বেড়িবাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই এলাকাকে ভাঙন ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা  বাপাউবো-এর মহাপরিচালক ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।  যার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পানি সম্পাদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন।