সহকারী প্রোগ্রামারকে যৌন নিপীড়ন, পিআইও ক্লোজড

Jessore pic 28.12.2020সহকারী প্রোগ্রামারকে আপত্তিকর প্রস্তাব ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেলকে ক্লোজ করা হয়েছে। রবিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ক্লোজ করা হয়। একই অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ ডিসেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর কর্মক্ষেত্রে যৌননিপীড়ন এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন অভয়নগরের সহকারী প্রোগ্রামার। অভিযোগের একদিন পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতর প্রথম শ্রেণির ওই নারী কর্মকর্তাকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বদলি করে।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেলকে ক্লোজ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। তাকে আজ রিলিজও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমার বিরুদ্ধেও তদন্ত হচ্ছে। তবে আমি নির্দোষ। আমি কখনও ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে কোনও অসদাচরণ করিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলামের সঙ্গে কয়েকদফা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে কল রিসিভ কিংবা টেক্সটের কোনও জবাব না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, ওই নারী কর্মকর্তার অভিযোগ, গত ৪ মার্চ তিনি অভয়নগর উপজলায় সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে যোগদান করেন। শুরু থেকেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তাকেসহ অন্য সহকর্মীদের গালাগাল করতেন অকথ্য ভাষায়। এছাড়া অফিসের নির্ধারিত সময়ের পর গভীর রাত পর্যন্ত তাকে অফিসে থাকতে বাধ্য করান। একপর্যায়ে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেলের মাধ্যমে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সর্বশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। যে কারণে তিনি সম্মান ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চাকরি করতে মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।