টাকার হিসাব না পাওয়ার বলি তিন শিশু!

শৈলকুপায় শিশু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধনঝিনাইদহের শৈলকুপায় পারিবারিক সম্পদ ও টাকা-পয়সার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তিন শিশুকে পুড়িয়ে হত্যায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও করেছে এলাকাবাসী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিঙ্গাপুর ফেরত মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন বিভিন্ন সময় বাড়িতে টাকা পয়সা পাঠিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ইকবাল তার পিতা গোলাম নবী ও ছোট ভাই শৈলকুপা পাইলট স্কুলের শিক্ষক দেলোয়ারের কাছে পাঠানো টাকা ও জমির হিসাব চান। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির সবাইকে মারধর করেন। পরে ছোট ভাইয়ের দুই ছেলে মোস্তফা সাফিন (৯) ও মোস্তফা আমিন (৭) এবং বোনের ছেলে মাহিমকে (১২) ধরে এনে হাত-বেঁধে ঘরের মধ্যে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়।
আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাফিন ও আমিন মারা যায়। ঝিনাইদহ হাসপাতালে নেওয়ার পর মাহিম মারা যায়। রবিবার রাতেই পুলিশ ইকবালকে গ্রেফতার করে।
এদিকে কবিরপুরে ৩ শিশুর পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তানদের হারিয়ে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে নিহতদের পরিবার। এ নৃশংস ঘটনার সংবাদ শুনে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে হাজার হাজার মানুষ। এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঘাতক ইকবাল হোসেনের ফাঁসির দাবিতে এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এসময় উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কবিরপুর বাজার মালিক সমিতি অংশ নেয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করে। এসময় শৈলকুপা থানার সেকেন্ড অফিসার ইমদাদ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে তারা ফিরে আসে।

শৈলকুপা থানার ওসি তোজাম্মেল হক জানান, নিহত তিন শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনও মামলা হয়নি।

 

/জেবি/এফএ/