খুলনার সরকারি-বেসরকারি তিনটি হাসপাতালে মঙ্গলবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন করোনা পজিটিভ ও এক জন উপসর্গের রোগী রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ১১ জনের চার জনই খুলনার। আর বাগেরহাট-যশোর ও নড়াইলের দুই জন করে এবং গোপালগঞ্জের একজন রোগী রয়েছেন। এছাড়া খুলনার আরও একজন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যাওয়া পাঁচ জনের মধ্যে চার জন করোনা পজিটিভ ও একজন উপসর্গের রোগী ছিলেন। এছাড়া খুলনা জেনারেল হাসপাতালে তিন জন ও গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া চার জনই করোনা পজিটিভ।
হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, ২৯ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ১৮৪ জন করোনা পজিটিভ ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে রেড জোনে ১০০, ইয়োলো জোনে ৪৩, এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ২০ জন রোগী রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন আর ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪৫ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ জন। এর মধ্যে চার জন করোনা পজিটিভ।
খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৫ জন ও ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৩ জন। এ সময়ে মারা গেছেন তিন জন। বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৩০ জন ও নারী ৩৬ জন।
বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, এখানে ২৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৯২ জন পজিটিভ ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন আর ছাড়পত্র নিয়েছেন ১৯ জন। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন চার জন।
এদিকে খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদিয়া মনোয়ারা উষা জানান, খুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০১ নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৩৭৮ জন। আক্রান্তের হার ৩৭ শতাংশ।
এছাড়া খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৮.৯৩ শতাংশ। এর আগে রবিবার খুমেক ল্যাবে শনাক্তের হার ছিল ৩৯.৬৫ শতাংশ, শনিবার ছিল ৫০ শতাংশ, শুক্রবার ছিল ৩৭.৯০ শতাংশ, বৃহস্পতিবার ছিল ৫১.৫৫ শতাংশ, বুধবার ছিল ৩৪ শতাংশ, মঙ্গলবার ছিল ৪০ শতাংশ, আর সোমবার ছিল ৩১ শতাংশ।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুমেকের পিসিআর মেশিনে মোট ৫৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২২০ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।