তিন গরুতেই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন!

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন শেখ। পেশায় চিংড়ি রেণুপোনা ব্যবসায়ী হলেও আঙিনায় করেছেন গরুর খামার। আর সেই খামারে পালন করেছেন একটি আমেরিকান ব্রাহমা ও দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। এবারের ঈদ উপলক্ষে আকারে বিশাল তিনটি গরুর মোট দাম হাঁকিয়েছেন এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা! অবশ্য এখনও বিক্রি হয়নি ৪৫ মণ ওজনের ‘ভৈরব’ ও ৪০ মণের ‘সুখি’ ও ৩৫ মণ ওজনের ‘মধুমতি’।

দর্শনার্থীর ভিড় লেগে আছে হোসেন শেখের বাড়িতে। অনেকেই আসছেন দামদর করতে। আবুল হোসেনের দাবি, কোনও ওষুধ ছাড়াই গরু তিনটি মোটাতাজা করেছেন তিনি। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে জেলার অন্যান্য খামারিদের মতো এবার গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছেন।

বাগেরহাট প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও সদর উপজেলা প্রশাসন বলছে, কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে বেশিরভাগ খামারির শঙ্কার কারণ নেই। ইতোমধ্যেই অনলাইনে গরু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিন গরুতেই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আবুল হোসেন

হোসেন বললেন, “আমার খামারের সবচেয়ে বড় অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটির ওজন ৪৫ মণ। ওর নাম ‘ভৈরব’। লম্বায় ৯ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। ভৈরবের দাম চাচ্ছি ৪৫ লাখ টাকা। একই জাতের ৯ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ৩৫ মণ ওজনের ‘মধুমতি’র দাম ২০ লাখ ও ব্রাহমা জাতের ৯ ফুট লম্বা ও ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার ৪০ মণ ওজনের ‘সুখি’র দাম চাচ্ছি ৪০ লাখ টাকা।”

‘তিনটি গরু লালন-পালনে প্রতিদিন আমার তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়। গতবছরও করোনার কারনে ভালো দাম না পাওয়ায় বিক্রি করিনি। এ বছরও দাম পাবো কি না চিন্তায় আছি। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বেপারিরা যোগাযোগ করেছেন। তাদের সঙ্গে দরদাম চলছে। আশা করছি এ বছর গরু তিনটি বিক্রি হবে।’ জানালেন হোসেন শেখ।

গরু পরিচর্যায় নিয়োজিত হোসেনের ছোট ভাই ইমরান শেখ বলেন, ‘গরু তিনটিকে কোনও ওষুধ ছাড়াই দেশি পদ্ধতিতে পালন করেছি। প্রতিদিনই খাবারে খড়-কুটার পাশাপাশি ভুসি, খৈল, ভুট্টার গুঁড়া, পালিশ কুঁড়া ও চিটাগুড় রাখা হয়।’

আবুল হোসেনের দাবি, কোনও ওষুধ ছাড়াই গরু তিনটি মোটাতাজা করেছেন

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, আসন্ন ঈদুল আজহায় জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩২ হাজার ৫২০টির। বিপরীতে ৬ হাজার ৪১টি খামারে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৮৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ২৫ হাজার ২৫৮টি, মহিষ ৫৭৩টি ও ছাগল-ভেড়া ১১ হাজার ১৫৪টি।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, “জেলায় করোনার প্রকোপ বেড়েছে। হাটগুলোতে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না বলে এ বছর আমরা অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যেই সদর উপজেলার পক্ষ থেকে ‘কোরবানির পশুর হাট’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। যেখানে খামারিরা তাদের গরুর ছবি ও তথ্য আপলোড করতে পারবেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ওয়োবসাইট নির্মাণের কাজও চলছে।”

বাগেরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে জেলায় পর্যাপ্ত পশু মজুত রয়েছে। আমরা সব সময় খামারিদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কোরবানির গরু বিক্রি নিয়ে জেলার তাদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’