জীবন-জীবিকার সমন্বয় করতেই লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘জীবন এবং জীবিকার কথা মাথায় রেখে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন প্রয়োজন, আবার শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা নির্বাহের কাজ একেবারে বন্ধ করতে পারি না। তাই জীবন-জীবিকার সমন্বয় করতে সরকার লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আয়োজনে করোনা সংকট বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সবাইকে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। জীবিকার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই চেতনাবোধ সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে, শহরে প্রত্যেকটা জায়গায় সবাই যাতে মাস্ক পরেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে অক্সিজেনের অভাবে কোনও রোগীর যেন মৃত্যু না ঘটে। একজনও যেন বিনা চিকিৎসায় না মারা যায় সেদিকে তৎপর থাকতে হবে। এখানে কী কী সমস্যা আছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’

কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি আছে উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘প্রয়োজনের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সরঞ্জামাদি আছে। হাসপাতালে সাড়ে ছয়শ’ সিলিন্ডার আছে, ১৪৮টি বেডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন টেনে রাখা হয়েছে। এছাড়া হাই ফ্লো ন্যাজল ক্যানুলাসহ সবকিছুই পর্যাপ্ত রাখা আছে।’

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হানিফ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা ক্ষমতায় থাকাকালে সীমাহীন ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে জনধিকৃত, জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তাদের কাছে নীতিবাক্য মানায় না। প্রধানমন্ত্রী বারো বছরে এই দেশটাকে অন্ধকার থেকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন। উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ধারায় নিয়ে এসেছেন। তিনি সারাবিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছেন।’

সম্প্রতি করোনা টিকা নিয়ে জিএম কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ‘রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এসব বক্তব্য। সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলেই জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় না। জনপ্রিয়তা পেতে হলে মানুষের কাছে যেতে হয়, কাছে থাকতে হয়। এগুলো রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বক্তব্য।’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন– কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, বিএমএ'র সভাপতি ডা. এস এম মুস্তানজিদ প্রমুখ।