চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের আট নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২৬ ডিসেম্বরের ইউপি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তারা।
শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এ কে ফজলুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের স্বাক্ষরকৃত পত্রে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ কে ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক গাজী আনিছুজ্জামান আনিছ। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক এই চেয়ারম্যান শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ইউনিয়ন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মামা রমজাননগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ আল মামুন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এ কে ফজলুল হকের শ্যালক এই নেতা নৌকার প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. শাহানুর আলমের বিপক্ষে প্রার্থী হয়েছেন।
বহিষ্কৃত অন্যান্য নেতারা হলেন নুরনগর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি জিএম গোলাম মোস্তফা, একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর আলী মোল্যা, কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য জিএম শাহাজাহান সিরাজ, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জিএম হাবিবুর রহমান, একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এসএম নুরুজ্জামান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় নুরনগর ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়া মীর আলী মোল্যা বলেন, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করেও দলের কাছে মূল্যায়ন না পেয়ে কর্মী ও সমর্থকদের চাপে প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।
‘জনবিচ্ছিন্ন নেতা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায়' দলের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে এসএম নুরুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হলে বুঝতে পারবেন সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনা। নির্বাচনের পর আমার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিশ্চিত হয়ে পুনরায় দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ দেবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ বিষয়ে আমি আশাবাদী।
শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আতাউল হক দোলন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দল খুবই শক্ত অবস্থানে আছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই আট নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।