মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

দায়িত্ব হস্তান্তর না করে, তদবিরে ব্যস্ত সাবেক কর্মকর্তা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি স্ট্যান্ড রিলিজ হলেও দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৭ বছর ধরে একই স্টেশনে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ ঠেকাতে তদবিরে ঢাকায় গেছেন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে সোমবার মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. শর্মী রায় যোগদান করেছেন।

এদিকে ডা. কামাল হোসেন মুফতির নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহাজাহান শেখ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নানা অনিয়ম দুর্নীতির পরও স্থানীয় ক্ষমতাসীন নেতাদের ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ১৭ বছর ধরে একই স্থানে কর্মরত আছেন ডা. কামাল। তার নেতৃত্বে একটি চক্র প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ছয় বার বদলি হলেও বিশেষ তদবিরে কোনও এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলাতেই রয়ে গেছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করা ডা. শর্মী রায় জানান, তিনি এই উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন। তবে তাকে কোনও প্রকার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। লোকমুখে শুনেছেন ডা. কামাল হোসেন তদবিরে ঢাকায় গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে ডা. কামাল হোসেন মুফতীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইলফোন রিসিভ করেননি।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দীন বলেন, মারেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করা ডা. কামাল হোসেন মুফতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তবে খবর পেয়েছেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।