ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো বিলুপ্ত প্রজাতির আরও একটি বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে জেলেদের জালে কচ্ছপটি আটকা পড়ে। রবিবার বিকালে উদ্ধার করে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, শনিবার সন্ধ্যায় পাথরঘাটার পায়রা নদীতে জেলেদের জালে ভারতের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো একটি বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ ধরা পড়ে। খবর পেয়ে পটুয়াখালী বন বিভাগের বনরক্ষীরা কচ্ছপটি জেলেদের কাছ থেকে আজ সকালে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। বিকালে কচ্ছপটি সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেদ্রে নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন: খুলনায় ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো কচ্ছপ উদ্ধার
তিনি আরও জানান, বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যাভ্যাস ও প্রজনন সম্পর্কে জানতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে টাইগার প্রজেক্ট ও প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ। এর মধ্যে দুটি কচ্ছপ পানিপথে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার বিষয়টি জানায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাগর-নদী হয়ে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে জেরেদের জালে ধরা পড়ে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো একটি কচ্ছপ। এ সময় আরেকটি কচ্ছপ বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে বিচরণ করছে বলে সিগনাল পাওয়া যায়।
চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুর বাসকা প্রকল্পের স্টেশন ম্যানেজার আব্দুর রব জানান, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিল। এখন এগুলো বিলুপ্তপ্রায়। এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই-একটির অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কচ্ছপের পিঠে বসানো স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের কার্যক্ষমতা এক বছরের। প্রথম বছরেই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর এমনিতেই এটি খসে পড়ে যায়। আমাদের মতো ভারতও মহাবিপন্ন প্রজাতির বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ টিকিয়ে রাখতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগিয়ে গবেষণা কাজ শুরু করেছে।