সাতক্ষীরায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার ২

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পাইথালী ও চাপড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। আজ সকালে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বুধহাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসেম সরদার (৭৫) ও মুজিবর রহমান সরদার (৭৬) এবং একই ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের বাসিন্দা মুজিবর রহমান সরদার (৭৬)।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আজ সকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। আদেশ পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মুজিবুর রহমান ধনুকে আশাশুনির পাইথালী এলাকার হাসেম রাজাকারের বাগানবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। আবুল হোসেনকে চাঁপড়ার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতা করা হয়। গ্রেফতারে পর তাদেরকে  সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন সানা জানান, আশাশুনি গ্রামের গোরাঠাকুরকে হত্যা ও তার মেয়েকে ধর্ষণ করে গুম করার অভিযোগ রয়েছে মুজিবুুর রহমান ধনু, আবুল হোসেন ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাককে হত্যাকারি লিয়াকত কমান্ডারের বিরুদ্ধে। এছাড়া চাপড়ার আনিসুর রহমান, শরাফপুর গ্রামের মেঘনাথ দাস, তারাপদ দাস ও কেষ্টপদ দাসকে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর এ বিষয়ে  জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার পরামর্শ দেয় আদালত। 

আলাউদ্দীন সানা আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পরিদর্শক আমিনুর রশিদ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাজিয়া সুলতানা চমন। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাতক্ষীরা জেলার সাক্ষ্য সমম্বয়কারী শাহ্ আলম জানান, তদন্ত কর্মকর্তারা সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি অপরাধ সংগঠিত হওয়ার স্থান পরিদর্শন করেন। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার সাতক্ষীরায় এসেছেন।

সরেজমিন পরিদর্শন ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তারা ট্রাইবুনালে অভিযোগপত্র দেন। তবে মামলার অন্যতম আসামি লিয়াকত কমান্ডার গত বছর মারা গেছেন। এ কারণে আসামীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রবিবার দুই আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালের কাছে গ্রেফতারি রোয়ানা চাওয়া হয়। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।