কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় দুই বছর পর আয়োজিত হচ্ছে লালন স্মরণোৎসব। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের এই অনুষ্ঠান। লালন একাডেমির আয়োজনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ স্মরণোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের অমর বাণী ‘মানুষ ভজলে শোনার মানুষ হবি’ প্রতিপাদ্যে ১৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে এ উৎসব চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত। মঙ্গলবার এর উদ্বোধন করবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন।
স্মরণোৎসবের দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। তৃতীয় দিন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
এদিকে, আখড়া প্রাঙ্গণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া কালিগঙ্গা নদীর তীর এলাকায় হরেক রকমের পণ্যের পসরা বসাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লালন ভক্ত-অনুসারীরা সমবেত হতে শুরু করেছেন আখড়া প্রাঙ্গণে।
এদিকে ১৩ মার্চ ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়া একটি সাংস্কৃতিক জনপদ। এই জনপদের একজন প্রবাদ পুরুষ ফকির লালন সাঁই। লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মূল্যবোধ মিশ্রিত বাণী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে লালন একাডেমি কুষ্টিয়া নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ মার্চ প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রতিবারের মতো লালন মেলা এবং লালনগীতি পরিবেশন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্মরণোৎসবে আগত লাখো লালনভক্ত অনুরাগীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি সবাই অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।’
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর লালন স্মরণোৎসব স্থগিত ছিল। দুই বছর পর আয়োজিত এ উৎসব উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই আখড়া ভক্ত-অনুরাগীরা দূরদূরান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন। কালীগঙ্গা নদীর পাড় ঘেঁষে মাঠে দোকান বসেছে।