প্রত্যন্ত এলাকার মা, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের সেবার কথা চিন্তা করে চুয়াডাঙ্গায় চালু হয় পল্লী অ্যাম্বুলেন্স সেবা। তবে বছর পার না হতেই মুখ থুবড়ে পড়ে সেবা কার্যক্রম। সরকারের ১৪ লাখ টাকায় কেনা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে তৈরি করা সাতটি অ্যাম্বুলেন্সের সবকটির সেবা বন্ধ হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে রোগী পরিবহনের যানগুলো।
জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বর্তমানে যুগের সঙ্গে তাল না মিলিয়ে অবাস্তবকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে সরকারের টাকা গচ্চা গেছে। টাকা খরচ করেও গ্রামীণ জনপদের মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, নিম্নমানের হওয়ায় বারবার নষ্ট ও ভেঙে পড়তো অ্যাম্বুলেন্সগুলো। রোগী বহনের জন্য অক্ষম ছিল ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে তৈরি এসব পল্লী অ্যাম্বুলেন্স।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, দ্রুততম সময়ে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পল্লী অ্যাম্বুলেন্সের সেবা চালু করা হয়। শিশু ও অসুস্থ রোগীদের সেবা দিতে তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ১৪ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল সাতটি অ্যাম্বুলেন্স। সদর উপজেলার সাত ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে ইউনিয়নের নামও লেখা হয়। দুই লাখ টাকা করে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে সাতটি পল্লী অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়। অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে তৈরি করা হয় নীতিমালা। এছাড়া চালকদের প্রতিদিন ভাড়া বাবদ ১৫০ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, সে টাকাও সঠিকভাবে জমা পড়েনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা সদর উপজেলার ১৭০ গ্রামের বাসিন্দার পল্লী অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে সেবা পাওয়ার কথা ছিল। তবে উদ্বোধনের ছয় মাস পরেই অ্যাম্বুলেন্সগুলো নষ্ট হতে থাকে। জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ার পর এসবের আর কেউ খোঁজ রাখেননি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হাসানুজ্জামান মানিক জানান, নিম্নমানের হওয়ায় বারবার নষ্ট ও ভেঙে পড়তো পল্লী অ্যাম্বুলেন্স। চালকরা নানা সমস্যার কথা বলে এই অ্যাম্বুলেন্স চালানো বন্ধ করে দেন। যে কারণে অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, পল্লী অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাটারি বাদ দিয়ে ইঞ্জিন লাগিয়েও চালানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া অন্যগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূইয়া বলেন, পল্লী অ্যাম্বুলেন্সগুলো কি অবস্থায় আছে তা খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোগটি ভালো ছিল, তবে পরিকল্পনার কিছু ঘাটতি থাকায় সেবা কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।