মায়ের লাশ আটকে সন্তানদের পুলিশে দেওয়ার অভিযোগ

ইসলামী আন্দোলনের নেতা তরিকুল ইসলাম কাবিরের মা পিয়ারুন বেগম (৫৫) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে শনিবার দিবাগত রাতে (১০ এপ্রিল) মৃত্যুবরণ করেন। এরপর রাতেই চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুর অভিযোগ আনেন তার দুই ছেলে। এ নিয়ে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার পর পিয়ারুনের লাশ ওই ওয়ার্ডেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে পিয়ারুনের দুই ছেলে তরিকুল ইসলাম কাবির ও সাদ্দাম হোসেনকে রবিবার (১০ এপ্রিল) সকালে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।  

পিয়ারুনের ভাইয়ের ছেলে মো. মামুন বলেন, ডায়াবেটিক ও হাড় সমস্যাসহ নানা কারণে অসুস্থ পিয়ারুন বেগমকে শুক্রবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের ১১-১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভর্তি করা হয়। বেড খালি না থাকায় ফ্লোরে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল। শনিবার দিবাগত রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তখন একাধিকবার দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে যান ছেলে তরিকুল। তবে কোনও চিকিৎসক এগিয়ে আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এক পর্যায়ে পিয়ারুন মারা যান। এতে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এরপর সকালে তরিকুল ও সাদ্দামকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আর লাশ ওয়ার্ডেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, হাসপাতাল থেকে সকালে তরিকুল ও সাদ্দাম নামে দুই যুবককে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। তারা নাকি হাসপাতালের ডাক্তারকে মেরেছে। তাদের থানা হাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার বলেন, মানুষ মারা গেলে একটি প্রক্রিয়া আছে। সে অনুযায়ী মরদেহ ছাড়তে হয়। লাশ আটকানোর কিছু নেই। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে। আমরা কোনও জিডি বা মামলা করিনি।