চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীতে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জমি জালিয়াত চক্রের মূলহোতা বিএনপি নেতাসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বিজয়নগর এলাকার মো. ইব্রাহিম মামলাটি করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে- গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিজয়নগর এলাকার আবদুল হাই টুনু (৬৫), তার ভাই গোলাম মোস্তফা সিবাজি (৫০), পার্শ্ববর্তী রাণীনগর এলাকার জামায়াতের সমর্থক সেরাজুল ইসলাম (৫০) ও বান্দুরিয়া হাজিপুর এলাকার নরেশ হেমব্রম (৬০)।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে জমির মালিক রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকার বাসিন্দা সাদিকুল হক ও বিজয়নগরের মো. ইব্রাহিম প্রায় আট বিঘা জমি প্লট আকারে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নেন। এরপর থেকেই বিএনপি নেতা টুনুর নেতৃত্বে তার লোকজন দুই জনকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাঁশলিতলা এলাকায় জমিতে উপস্থিত হয়ে টুনু ও তার ১৫-২০ জন অনুসারী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এরপর জমির সাদিকুল ও ইব্রাহিমকে ভয়ভীতি দেখান।

টুনু এ সময় জমির দুই মালিককে বলেন, ‘জমি প্লট আকারে বিক্রি করতে হলে আমাকে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তোমাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে।’ এ সময় টুনু এবং তার অনুসারীরা ইব্রাহিমের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা ছিনেয়ে নেন। এ ছাড়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এলাকাবাসী জানান, বিএনপি নেতা টুনু গোদাগাড়ী এবং পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলায় জমি জালিয়াত চক্রের মূলহোতা। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমি জোরপূর্বক দখলের জন্য তার নিজস্ব লোকজন রয়েছে। গোদাগাড়ীর উপজেলার বসন্তপুর এলাকায় তার সহযোগীদের দিয়ে আদিবাসীদের একটি দামি জমি দীর্ঘদিন থেকে দখল করে রেখেছেন। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী চৌদুয়ার এলাকাতেও আরেকটি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২০টি স্থান দখল করে রেখেছেন। এ ছাড়া তার বাড়িতে ভুয়া দলিলসহ বিভিন্ন ধরনের সিল রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বাড়ি তল্লাশি করলে বিষয়টির সত্যতা পাবে।

মামলার বাদী মো. ইব্রাহিম দাবি করেন, ‘আমাদের জমির মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য টুনু এবং তার বাহিনী গত সাড়ে চার মাস থেকে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তার ক্যাডার বাহিনীর প্রতিনিয়ত হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। শুধু আমরা নয়, এ এলাকায় টুনু এবং তার বাহিনীর সন্ত্রাসীর তৎপরতায় এলাকার মানুষ জমি-ভিটা হারিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।’

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামি টুনুর বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’