১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ায় খুলনা জেলা বিএনপির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তার জবাব দিতে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ আগস্ট) বিকালে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান ও সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশ তাদের কাছে পাঠানো হয়। তারা হলেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. দিদার হোসেন ও তেরখাদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন জমাদ্দার। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম এনামুল হককে শোকজ করা হয়েছে। শনিবার রাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান।
শোকজ নোটিশে বলা হয়েছে, ‘খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য মো. দিদার হোসেন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। পাশাপাশি তেরখাদা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকরাম হোসেন জমাদ্দার তার এলাকায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। দায়িত্বশীল পদে থেকে তাদের এমন আচরণ দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। তাই কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এ মর্মে সাত দিনের মধ্যে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক জবাব দিতে বলা হয়েছে।’
পাশাপাশি পৃথক নোটিশে বলা হয়েছে, ‘গত ৩১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফলে পাইকগাছা থেকে খুলনায় বাসযোগে আসার সময় পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আব্দুর মজিদ এবং সিনিয়র নেতা আবদুল মজিদ গোলদারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এনামুল হক। এরপর ৭ আগস্ট কৃষক দলের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফলে নেতাকর্মীরা খুলনা শহরে এলে ফেরিঘাট মোড়ে কৃষক দলের সভাপতি মেছের আলীকে নেতাকর্মীদের সামনে গালাগালসহ মারতে উদ্যত হন। এর আগে ১১ এপ্রিল পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি অফিসে সভা চলাকালে মজিদ গোলদারকে একইভাবে অফিস থেকে বের করে দেন এনামুল হক। এছাড়া খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে খুলনায় আসার পথে চাঁদখালী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হান্নানের সঙ্গে গাড়ির ভেতর একই আচরণ করেন তিনি। প্রতিটি ঘটনার পর নেতারা এস এম এনামুল হককে মৌখিকভাবে সতর্ক করে আসছিলেন। বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একের পর এক এমন আচরণ দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের সামিল। কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—এ মর্মে সাত দিনের মধ্যে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বরাবর কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী কাজ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাদের তিন জনকে শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’