ক্লাসরুম পুলিশের দখলে, বারান্দায় শিক্ষার্থীরা

স্কুল ভবনে পুলিশ ক্যাম্প চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শম্ভুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে তিনটিতে ১৫ বছর ধরে বহাল রয়েছে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্প। শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে স্কুলের বারান্দায় ও একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে। পুলিশ ক্যাম্পের নিজস্ব জমি থাকলেও স্কুল থেকে ক্যাম্প সেই জমিতে স্থানান্তরের জন্য নেওয়া হয়নি কোনও উদ্যোগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ও পুরনো মিলে বিদ্যালয়ের দুইটি ভবনে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যেগুলোর তিনটিই পুলিশের দখলে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বসার ১৫০টি বেঞ্চ দখল করে পুলিশ সদস্যদের ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে অবশিষ্ট পরিত্যক্ত ভবনটিতে ক্লাস করাতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শম্ভুনগর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম জানান, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ক্যাম্প হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে তো বটেই, সেইসঙ্গে ব্যাঘাত ঘটছে আমাদের কাজেও। ক্যাম্পটি দ্রুত এখান থেকে সরিয়ে নিজস্ব জমিতে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।  
শম্ভুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল হোসেন জানান, পুলিশ ক্যাম্পের কারণে ২৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালে শম্ভুনগর গ্রামের বাসিন্দা হাজি আব্দুল মালেক পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য ৫০ শতক জমি দান করেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুদান হিসেবে নগদ তিন লাখ টাকা দেওয়া হলেও এ পর্যন্ত  পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ারাদার ছেলুন এমপি ও চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার রশিদুল হাসানকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা অতি দ্রুত পুলিশ ক্যাম্প ভবন নির্মাণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

/এআর/এইচকে/