তেরখাদায় মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন ২৬ জন, নতুন আবেদন ৯৫০ 

স্বাধীনতার পর খুলনার তেরখাদায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৯১ জন। তাদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন তেরখাদা উপজেলায় ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম ওঠাতে উপজেলা থেকে ৯৫০ জন আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। এমন ঘটনায় এলাকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

সম্প্রতি এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. আবদুল জলিল শেখ। 

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ ও নষ্ট মানুষ ঘুষ নিয়ে ভুয়াদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর ব্যবসা শুরু করেছে। ১৯৭১ সালে যার বয়স মাত্র ৪-৫ বছর, তারাও টাকা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৪৬২ জন। এমন অবস্থায় আরও ৯৫০ জনকে জনপ্রতি সাত লাখ টাকা করে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ৯৫০ জনের মধ্যে ১৯৭১ সালে অনেকেরই বয়স ছিল ৪-৫ বছর। এদের সংখ্যা ২০০ জনের মতো। আর নতুন আবদেনকারীদের মধ্যে রাজাকার পরিবারের সদস্য ৭৫ জন।’ 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী হেকমত আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নতুন আবেদন করা এ ৯৫০ জনের বিষয়ে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটিতে তেরখাদার দুই জনের নাম রয়েছে। তবে তারা মুক্তিযোদ্ধা হলেও তেরখাদা বা এ অঞ্চলে যুদ্ধ করেননি। তারা সময় কাটিয়েছেন ভারতের ট্রেনিং ক্যাম্পে। তাই আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটিতে এলাকার মানুষ ও তেরখাদা বা এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এমন মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা জেড এম ওসিকুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, শেখ গাউসুল হক ও এম এ ওয়াদুদ।