খুলনায় এক খাদ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ওএমএস ডিলারের দোকানে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ডিলাররা। খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
ডিলারদের মধ্যে কয়েকজন জানান, মহানগরীর লবণচরা পয়েন্টের ওএমএস ডিলার মেসার্স রাখী এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১২ অক্টোবর তার প্রতিষ্ঠানে সরকারের ন্যায্যমূল্যের চাল ও আটা বিক্রি চলছিল। ওই সময় জেলা খাদ্য অফিসের তদারক কর্মকর্তা পরিচয়ে তিন জন সেখানে আসেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নেন। এক পর্যায়ে এসি মনিরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন ‘আপনার পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি কেন। এটা কী আওয়ামী লীগের অফিস। এখানে এ সব ছবি রেখে কী চুরি করতে সুবিধা হয়।’ পরে তিনি ডিলার পয়েন্ট থেকে ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
ওই পয়েন্টের ডিলার শাহাবুদ্দিন মোল্লা বলেন, ওএমএস পয়েন্ট তদারকির জন্য আসেন এসি জাহিদুর রহমান, এসি মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও এসি সোহেল মাহমুদ। পর্যবেক্ষণ ও খোঁজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে এসি মনিরুল ইসলাম সিদ্দিক বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আমি মনে করি তা শোভনীয় হয়নি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ওএমএস পয়েন্টে রাখা যাবে কিনা সে বিষয়ে খাদ্য বিভাগের কোনও নির্দেশনা নেই। কিন্তু ওই তদারক কর্মকর্তা পয়েন্টে আমার কোনও ত্রুটি না পেয়ে ছবি রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসি মনিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, লবণচরার ওই পয়েন্টে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সংক্রান্ত কোনও মন্তব্য আমি করিনি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলা হচ্ছে। খাদ্য বিভাগ শহরের সবগুলো পয়েন্ট নিয়মিত পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করছে। এর ফলে ডিলার অসন্তোষ থেকে এমন মনগড়া অভিযোগ তুলেছেন বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. বাবুল হোসেন বলেন, লবণচরা ওএমএস পয়েন্টে থাকা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে খাদ্য পরিদর্শকের মন্তব্য বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।