স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কথা বলে হলেন দস্যু বাহিনীর প্রধান

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘শাস্ত বাহিনীর’ সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন ফজলু শেখ। পরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে করেছিলেন আত্মসমর্পণ। বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য গ্রহণ করেছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা। গত বছরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছ থেকে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছেন। এরপরও আগের পেশা ছাড়েননি। এবার ‘ফজলু বাহিনী’ গড়ে এর প্রধান হয়ে যান। এরই মধ্যে জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করেন এই বাহিনীর সদস্যরা।

অবশেষে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর সূর্যমুখী খাল থেকে ফজলু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার আড়ুয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আহাদ আলী শেখের ছেলে ফজলু বাহিনীর প্রধান ফজলু শেখ, সিকিরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড মজনু শেখ, পেড়িখালীর মৃত জোনাব আলী মোড়লের ছেলে শাহাদাত মোড়ল এবং জিগিরমোল্লার নজরুল শেখের ছেলে ফয়সাল শেখ। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মোংলা থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোরে সুন্দরবনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় শ্যালা নদীর সূর্যমুখী খাল থেকে ফজলু বাহিনীর প্রধান ফজলু শেখ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কয়েকটি ধারালো অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা উদ্ধার করা হয়।’

ফজলু শেখ সুন্দরবনের বনদস্যু শাস্ত বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলে আত্মসমর্পণ করেছিল ফজলু। বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছিল। গত বছরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছিল। কিন্তু আগের পেশা ছাড়তে পারেনি। সুন্দরবনে নতুন করে গড়ে তুলেছে ফজলু বাহিনী নামের আরেকটি বনদস্যু বাহিনী। জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল এই বাহিনীর সদস্যরা। মজনু শেখ কুখ্যাত বনদস্যু। জেলেদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করতো। অবশেষে তাদের গ্রেফতার করা হলো।’