কুষ্টিয়ায় টানা ১০ দিন তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমে মানুষসহ প্রাণীকুলের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছর এটি জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
গতকাল রবিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়াও শনিবার জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, তাপের এই পারদ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, তীব্র দাবদাহে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র তাপপ্রবাহে কুষ্টিয়া শহরসহ আশপাশে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে বাড়ি পর্যন্ত আসতে আসতে গরম হয়ে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়ার মাঠপাড়া এলাকার যুবক ফয়সাল হোসেন জানান, তীব্র রোধের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতে হয় কিন্তু রোদের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একই এলাকার চা দোকানি মারফত আলী জানান, একদিকে রমজান চলছে, অপরদিকে তীব্র গরমের কারণে বেচাবিক্রি একেবারেই কমে গেছে। সামনে ঈদ কী করবো বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় রাশেদুজ্জামান নামে এক যুবক জানান, গরমের কারণে মানুষের অবস্থা খারাপ। বিশেষ করে দিনমজুর শ্রেণির মানুষগুলো তীব্র রোদের মধ্যে অবর্ণনীয় কষ্ট করছেন।
মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুলের প্রিন্সিপাল মজিবুল হক বলেন, ঈদের কারণে স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। তবে কোচিং সেন্টার চালু থাকলেও তীব্র তাপের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে।
এদিকে, তীব্র গরমে বয়স্ক ও শিশুরা ডায়রিয়াসহ জ্বর, ঠান্ডায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ দিনে অতিরিক্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক বয়স্ক-শিশু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একটানা তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, শিশুদের নিউমোনিয়াসহ গরমজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার তাপস কুমার সরকার বলেন, প্রতিদিনই গরমজনিত শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের শয্যা সংখ্যার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, সোমবার বিকাল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তবে ২৩ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল আলীম জানান, তীব্র খরতাপের কারণে কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর উপজেলায় তামাক চাষ অধ্যুষিত হওয়ায় প্রতিদিন অন্তত ২০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে এবং চাষিরা বেশ মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেক সময় অধিক তাপের ফলে শুষ্ক তামাকের গুদামে এমনিতেই আগুন ধরে যাচ্ছে, শুষ্ক তামাককে দাহ্য পদার্থ হিসেবে ধরা হয়।