ঈদের ছুটিতে বিদেশের চেয়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী স্থান ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের। এ জন্য করোনার পর এবার সুন্দরবন ঘিরে পর্যটনের দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন পর্যটক সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে দ্বিগুণ রাজস্ব আয়ের প্রত্যাশা করছেন তারা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার ও বিমানের টিকিটের দাম বাড়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবনে ঘুরতে আসার আগ্রহ বেশি ভ্রমণপিপাসুদের। এরই মধ্যে লঞ্চ, বোট ও হোটেল বুকিং দিয়েছেন প্রচুর পর্যটক। আরও অনেকে এখনও বুকিং দিচ্ছেন।
এদিকে, এবার প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসবেন এমন আশায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং নিরাপত্তা জোরদার করেছে বন বিভাগ।
সরকারি-বেসরকারি খাতের পর্যটন শিল্প-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন বছর করোনার কারণে পর্যটন ব্যবসায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। এবারের ঈদের ছুটি কাজে লাগিয়ে ব্যবসা করতে চান তারা। অনেক পর্যটক এবার সুন্দরবনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে তাদের বরণের জন্য সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
এবারের ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন ঘিরে পর্যটকদের চাঙা ভাব দেখা যাচ্ছে বলে জানালেন পূর্ব সুন্দরবনের করমজল পর্যটন স্পট ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘হোটেল-মোটেল, লঞ্চ, জালিবোট মালিক ও ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রচুর পর্যটক আসার খবর পাচ্ছি। সেজন্য বনের ভেতরে করমজল, হারবাড়িয়া ইকোট্যুরিজম, কটকা ও কচিখালী কেন্দ্রগুলো নতুন করে সাজানো হয়েছে। করমজলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য নতুন করে এক কিলোমিটার আরসিসি ফুট ট্রেইল, ঝুলন্ত সেতু, দুটি গোলঘর, একটি তথ্যকেন্দ্রসহ নতুন কয়েকটি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। আশপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে। পর্যটক বরণের সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি আমরা। আশা করছি, এবার বেশি পর্যটক আসবে এবং দ্বিগুণ রাজস্ব আয় হবে।’
সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবসায়ী গোলাম রহমান বিটু বলেন, ‘পর পর তিন বছর করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। এর বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটনে। যারা ছুটি পেলেই বিদেশে ঘুরতে যেতেন, এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘোরার জন্য আগ্রহী হয়েছেন। অনেকের পছন্দের শীর্ষে সুন্দরবন। এ জন্য আমরা আশা করছি, প্রচুর পর্যটক আসবে।’
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী জামাল হোসেন ও জাহিদ মোল্লা জানিয়েছেন, এবার ঈদের ছুটিতে ইতোমধ্যে তাদের লঞ্চ এবং জালিবোট বুকিং হয়ে গেছে। যারা বুকিং দিয়েছেন তারা সুন্দরবন দেখার অপেক্ষায় আছেন। তারা বুকিং দেখে বুঝতে পারছেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার সুন্দরবনে বেশি পর্যটক আসবে।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের পর্যটনে চাঙা ভাব বিরাজ করছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী, পর্যটক এলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সুন্দরবনের পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মোংলার আহ্বায়ক মো. নুর আলম শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখতে হলে সুন্দরবনে আসতে হবে। করোনার পর এবার কোনও বিধিনিষেধ নেই। কাজেই বেশি পর্যটক আসবে। সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বনের ওপর অত্যাচার কমাতে হবে।’
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বনের সম্পদ রক্ষা ও পর্যটকদের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য বন কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে।’