জাটকা নিষেধাজ্ঞার চার মাসেও চাল পাননি মোংলার ২৭০ জেলে

নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত এই আট মাস সুন্দরবন উপকূলে জাটকা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কারণে মোংলার এক হাজার ১০ জন নিবন্ধিত জেলে নদীতে যেতে পারছেন না। মোংলা উপজেলা মৎস্য অফিস বলছে, সরকারের পক্ষ থেকে এই আট মাসে দুই দফায় জেলেদের জনপ্রতি ৮০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। তবে মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের নিবন্ধিত ২৭০ জন জেলে বলছেন, বরাদ্দের প্রথম দফার চালই তারা পাননি। 

একই উপজেলার অন্য দুটি ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফার চালও বরাদ্দ হয়ে গেছে। কিছু জেলে সেই চালও পেয়েছেন। 

এ বিষয়ে উপজেলা জেষ্ঠ্য মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার এখানে চাঁদপাই, বুড়িডাঙ্গা, সোনাইলতলা এবং পৌর শহরের কিছু অংশের মোট ১ হাজার ১০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। জাটকা ইলিশের চলমান নিষেধাজ্ঞায় এসব জেলেদের জন্য দুই দফায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রথম দফায় (ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস) বুড়িডাঙ্গা, সোনাইলতলা ও পৌরসভার জেলেদের চাল দেওয়া হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফার চালও ঈদের দুই সপ্তাহ আগে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকার জেলেরা দ্বিতীয় দফার চালও পেয়েছেন। ’

কিন্তু চাঁদপাই ইউনিয়নের ২৭০ জন জেলেরা এখনও প্রথম দফারই চাল পাননি স্বীকার করে তিনি অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যানকে একাধিকবার বলা হলেও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার গাফিলতির কারণে অসহায় জেলেরা প্রতিদিন তার অফিসে আসছেন।’

এ বিষয়ে চাঁদপাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোল্লা তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলেদের তালিকা প্রস্তত করতে একটু সময় লেগেছে। দু-চারদিনের মধ্যে দিয়ে দেব।’

এ বিষয়ে মোংলা উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপকংর দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতাম না, এখনই চেয়ারম্যানকে বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এদিকে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলার পর চেয়ারম্যান মোল্লা তরিকুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, ‘নিউজ করে বিপদে ফেইলেন না, আগামী বুধবার জেলেদের চাল দিয়ে দেব।’

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, ‘প্রতিবারই নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের হাতে চাল পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। অন্যান্য ইউনিয়নের জেলেরা চাল পেলেও আমরা পাইনি। এ নিয়ে প্রতিদিন উপজেলা মৎস্য অফিসে ঘোরাঘুরি করেও লাভ হচ্ছে না।’

দক্ষিণ কাইনমারীর জেলে শিমন বিশ্বাস ও কিতর বাড়ই জানান, বরাদ্দ চাল না পেয়ে এখন তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অবিলম্বে সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ চাল পেতে চান তারা।