বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান

‘অযথা হয়রানি’ না করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাড. শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেছেন, ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবিতে চলমান যুগপৎ আন্দোলন চলছে। চলমান গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও খুলনায় কর্মসূচি আসলেই সরকারের পেটোয়া বাহিনী পুলিশ গায়েবি মামলা দিয়ে, হামলা চালিয়ে, নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অহেতুক হয়রানি করছে।’ এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অরাজকতাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।

খুলনা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে ‘অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি’র প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১৬ জুন) বিকাল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ও পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা উল্লেখ করেন।

খুলনার ‘শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি’তে অতি উৎসাহী পুলিশের লাঠির আঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে খুলনার বিএনপি নেতা বাবুল কাজী মৃত্যুবরণ করেছেন অভিযোগ করেন 

অ্যাড. শফিকুল আলম মনা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ সরকার, তাদের আমলা প্রশাসন ও দলীয় মন্ত্রী-এমপি-নেতারা দেশটাকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। সীমাহীন লুটপাট ও বিদেশে পাচারের কারণে দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম।’

গণমানুষের আস্থার সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি শুরু থেকেই সরকারের অনিয়ম দুর্নীতি দুঃশাসন ও লুটপাটের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি পালন করার মাশুল হিসেবে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদী শাসক গুম-খুন-অপহরণ-মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও হয়রানির নজিরবিহীন তান্ডব চালিয়েছে এবং এখনও যা অব্যাহত আছে। সারা দেশে ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি বানিয়েছেন। গুমের শিকার নেতাকর্মীরা আজও তাদের পরিবারের কাছে ফিরতে পারেননি।’

তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আগামী শুক্রবার (১৬ জুন) বিকাল ৩টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি কেন্দ্রীয় কর্মসুচিতে পুলিশ প্রশাসন পেশাদারিত্ব আচরণ করবেন। হয়রানি না করে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে সহযোগিতা করবে। দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। এ জন্যই বিএনপির আন্দোলনের প্রতি তারা সাড়া দিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপিস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, স ম আব্দুর রহমান, বেগম রেহেনা ঈসা, কাজী মাহমুদ আলী, শের আলম সান্টু, আবুল কালাম জিয়া, বদরুল আনাম খান, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, একরামুল হক হেলাল, শেখ সাদী, হাসানুর রশিদ চৌধুরী মিরাজ, কে. এম. হুমায়ূন কবীর, হাফিজুর রহমান মনি, আবু মো. মুরশিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, মোল্লা ফরিদ আহমেদ, সৈয়দ সাজ্জাদ আহসান পরাগ, আব্দুর রাজ্জাক, গাজী আফসার উদ্দিন, আনসার আলী, মিজানুর রহমান মিলটন, যুবদলের নেহিবুল হাসান নেহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিকুল ইসলাম শাহীন, মহিলা দলের অ্যাড. কানিজ ফাতেমা আমিন, কাওসারী জাহান মঞ্জু, ছাত্রদলের সৈয়দ ইমরান ও সাজ্জাদ হোসেন জিতু প্রমুখ।