যশোরে এইচআইভি (এইডস) শনাক্তের সংখ্যা বেশ উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে যশোরে ৫ হাজার ৬৪০ জনের পরীক্ষা করে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১০ জন। আর এই সময়ে মোট চারজন মারা গেছেন, যার মধ্যে নারী তিন জন এবং পুরুষ একজন।
রবিবার (২৫ জুন) দুপুরে যশোর রেড ক্রিসেন্ট মিলনায়তনে এক সেমিনারে এসব কথা জানানো হয়। ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটি নামে একটি বেসরকারি সংস্থা সেমিনারের আয়োজন করে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এইডস রোগের বিষয়ে কেউ কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। যশোর সীমান্তবর্তী জেলার পাশাপাশি এখানে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। যেখান দিয়ে দেশের ৮০ শতাংশ পণ্য ভারত থেকে আসে। সেইসঙ্গে প্রচুর ট্রাক ড্রাইভার, হেলপারসহ পরিবহন শ্রমিকদের আসা-যাওয়া হয়। এখানে রয়েছে একটি বড় রেলওয়ে স্টেশন এবং যশোর থেকে ১৮টি রুটে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া-আসা করা যায়। সে কারণে এই জেলা এইডসের জন্যে খুবই অ্যালার্মিং।’
তিনি বলেন, ‘ভয় পেলে চলবে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।’
আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে আগামী মাসেই যশোরে (এআরটি-অ্যান্টি রেক্টোভাইরাল থেরাপি) চিকিৎসাকেন্দ্র করা হবে বলে তিনি জানান।
সেমিনারে জানানো হয়, ২০০৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যশোরে ৩৪ হাজার ৬৯৩ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৪৬ জন পজিটিভ হন। যশোরে মোট ২০ জন এইডস রোগী। এ পর্যন্ত ১৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন; যার মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন।
সেমিনারে জেলা এফপিএবি কর্মকর্তা ও জেলা এইচআইভি কমিটির সদস্য মো. আবিদুর রহমান জানান, শুধু ২০২২ সালে যশোরে ৫ হাজার ৬৪০ জনের পরীক্ষা করে পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১০ জন। আর এই সময়ে মোট চারজন মারা গেছেন, যার মধ্যে নারী তিন জন এবং পুরুষ একজন।
সেমিনারে ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটির সাব ডিআইসি ইনচার্জ মিলন মণ্ডল বলেন, ২০২২ সাল নাগাদ গোটা দেশে ৯ হাজার ৭০৮ জন এইআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত; যার মধ্যে ২০২২ সালেই আক্রান্ত হয়েছে ৯৪৭ জন। এ যাবত মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮২০ জন, যার মধ্যে ২০২২ সালেই মারা গেছে ২৩২ জন।
তিনি জানান, তারা পাঁচটি বিভাগের ১৯ জেলায় তাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার মধ্যে খুলনা বিভাগের যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল। আলোচনা করেন যশোর পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর নাছিমা আক্তার জলি প্রমুখ।