যশোরে যাত্রীবাহী ইজিবাইকে বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচ জনসহ মোট সাত জন নিহত হয়েছেন। যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর-মাগুরা সড়কের লেবুতলা ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, লেবুতলা বাজারে সড়কের ওপর একটি গতিরোধক রয়েছে। মাগুরামুখী বাসটি গতি না কমিয়ে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করলে ইজিবাইককে ঠেলে নিয়ে একটি প্রাচীরের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। ফলে ইজিবাইকটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চার জন মারা যান। এ সময় একটি মোটরসাইকেলের চালকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা ও ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা হতাহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে আনার পর আরও দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে অপর এক শিশু মারা যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন– তিন বছর বয়সী দুই ভাই (যমজ) হাসান ও হোসেন, তাদের খালা খাদিজা (৭), নানি রাহিমা খাতুন (৬৫) ও খাদিজার মা মাহিমা বেগম (৬৫), যাত্রী ইমরান ও অজ্ঞাত চালক।
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আজিজুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চার জনের মরদেহ দেখতে পাই। আহত দুজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনি। সর্বশেষ কতজন মারা গেছেন, আমরা নিশ্চিত না।’
যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন বলেন, ‘রয়েল পরিবহনের একটি বাস মাগুরার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় পাশের একটি রাস্তা থেকে প্রধান সড়কে একটি অটোরিক্শা (ইজিবাইক) ওঠার সময় বাসটি চাপা দেয়। ওই অটোরিকশায় আট যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচ জনসহ মোট সাত জন মারা যান। আমরা বাসটি আটক করেছি।’
বাসের চালক ও হেলপারকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান হাসপাতালে যান। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ঈদের আগে সড়কের গাড়িগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যে কারণে এ বছর তেমন দুর্ঘটনা ঘটেনি। ঈদ পরবর্তী সময়ে এই দুর্ঘটনায় আমরা মর্মাহত। দোষী চালককে আটকের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হতাহতদের দাফন ও চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি।’