কার্ড পেলেও খাদ্য সহায়তা পান না ৩৫০ জেলে

কৈবদ্দাসকাঠি চরে বসবাসকারী এরশাদ আলী গাজী মৎস্য বিভাগের তালিকাভুক্ত ও কার্ডধারী জেলে। আট বছর আগে তিনি এ কার্ডটি পেয়েছেন। বছরে দুই বার নদী ও সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার কার্ডধারী জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তার অনুদান দেয়। কিন্তু কার্ডধারী এই জেলে গত আট বছরে কোনও সহায়তা পাননি।

এরশাদ জানান, তার সংসারে পাঁচ সদস্য রয়েছে। আয়ের অবলম্বন তিনি একাই। নিষেধাজ্ঞার সময় তাকে দিনমজুরি দিয়ে আয় করতে হয়। গত আট বছর ধরে তিনি সরকারের সহায়তা পাচ্ছেন না।

শুধু জেলে এরশাদই নন, গৌরম্ভা ইউনিয়নের চরে বসবাসরত ৩৫০ জন জেলের রয়েছে মৎস্য বিভাগ থেকে দেওয়া কার্ড। কার্ডধারী এই জেলেরা ৮ বছর থেকে ১১ বছরে সরকারি সহায়তা পাননি। আর বাকি জেলেরা আবেদন করেও এখন পর্যন্ত জেলে কার্ড পাননি। এ সব জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময় মানবেতর জীবনযাপন করেন। বর্তমানে সাগরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তারা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে, সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা এখনও চলমান থাকায় তারা বনের পাস পারমিট পাচ্ছেন না।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন গৌরম্ভা। এ ইউনিয়নের কাপাসডাঙ্গা গ্রামের অবহেলিত জনপদ কৈগদ্দাসকাঠি চর, যা পশুর নদীর চর। এ চরটি বাগেরহাটের রামপাল ও খুলনার দাকোপ উপজেলার সীমান্তে। এ চরে বাস করে ৮০০ জেলে পরিবার।

অসুস্থ জেলে জলিল শেখের স্ত্রী রশিদা বেগম বলেন, জেলে কার্ড থাকার পরও তারা নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা পান না। তবে, তিনি ৬ মাসে একবার ভিজিএফএর ৩০ কেজি চাল পান। যা দিয়ে তার ৬ জনের সংসার চলে না।

জেলে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তানিয়া বেগম বলেন, স্বামীর জেলে কার্ড ছিল। দুই বছর আগে নিষেধাজ্ঞার সময় খবর পেয়ে খাদ্য সহায়তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যান। কিন্তু খাদ্য সহায়তা না দিয়ে কার্ড রেখে দেওয়া হয়। বলা হয় পরে ডাকা হবে। তারপর দুই বছর পার হয়ে গেছে। কখনও ডাকা হয়নি। আর জেলে কার্ডও ফেরত পাননি। তার স্বামী কাজের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়ান। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও অর্থ সঙ্কটের কারণে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।

জেলে মাজহারুল হক বলেন, ১১ বছর ধরে জেলে কার্ড পেয়েছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত একবারও সরকারি খাদ্য সহায়তা পাননি। খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরে দেখছি বলে জানানো হয়। 

গৌরম্ভা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিব সরদার বলেন, প্রতিবার এ ইউনিয়নে ২১ জন জেলের জন্য বরাদ্দ আসে। পর্যায়ক্রমে দেওয়া হয়। আমার দুই বছর এখনও হয়নি। আগের হিসাব জানা নেই। কার্ডধারী জেলেরা পর্যায়ক্রমে সহায়তা পাচ্ছেন। 

রামপাল উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা এসিল্যাণ্ড শেখ সালাহউদ্দিন বিকুল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।