বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের দেওয়ানবাটি গ্রামে শৌচাগার থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ফিরোজা বেগম রুমা (৪০) নামে এক গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার বস্তাবন্দি লাশ শৌচাগারে রেখে থানায় নিখোঁজের জিডি করেছিলেন স্বামী আলী হোসেন মোল্লা।
শনিবার (০৫ আগস্ট) বিকালে বাবার বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফিরোজার স্বামী আলী হোসেন মোল্লাকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আলী হোসেন। নিহত ফিরোজা বেগম ওই গ্রামের গফুর মোল্লার মেয়ে। আলী হোসেন বাগেরহাট শহরের নাগেরহাট বাজার এলাকার আজিজ মোল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন ফিরোজা। প্রথম বিয়ের ১৭ বছর পর আলী হোসেনকে বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৯ জুলাই থেকে ফিরোজা নিখোঁজ ছিলেন। এজন্য আলী হোসেন বাগেরহাট মডেল থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের কথা শুনে শনিবার দুপুরে ফিরোজার প্রথম ঘরের মেয়ে পূর্ণিমা ও মেয়ের জামাই রায়হান ব্যাপারী পিরোজপুর থেকে বাড়ি আসেন। বিকালে ঘর থেকে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে শৌচাগারের স্লাব খুলে একটি বস্তা দেখতে পান। বস্তার মুখ খুলে মায়ের অর্ধগলিত লাশ দেখেন তারা। এ সময় আলী হোসেন পালানোর চেষ্টা করেন। তখন জামাতা রায়হান ধরে ফেলেন। পরে পুলিশকে জানালে আলী হোসেনকে আটক করে। এরপর লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের জামাতা রায়হান ব্যাপারী জানান, নানা অজুহাতে তার শাশুড়িকে প্রায়ই মারধর করতো আলী হোসেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে বস্তায় ভরে শৌচাগারে ফেলে দেয়। তিনি মোবাইলে শাশুড়ির কথা জানতে চাইলে নানা রকম টালবাহানা করতো। শনিবার বাড়ি এসে লাশ উদ্ধার করেন।
বাগেরহাট মডেল থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, ‘আলী হোসেনের তৃতীয় স্ত্রী ফিরোজা। বিয়ের পর থেকে খুব বেপরোয়া ছিল। মাঝেমধ্যে ফিরোজাকে মারধর করতো। ফিরোজার প্রথম ঘরের একমাত্র মেয়ে তার স্বামীর সঙ্গে পিরোজপুরে থাকে। পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে আলী হোসেন। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।’