জঙ্গি আস্তানায় স্ত্রী-মেয়েসহ আটক শরিফুল সাইকেল মেকানিক, ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এর মধ্যে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার এক পরিবারের তিন জন রয়েছেন। তারা হলেন তালার দক্ষিণ নলতা গ্রামের সাইকেল মেকানিক শরিফুল ইসলাম (৪৫), তার স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৫) ও মেয়ে হাবিবা (১৮)। গত ২৫ জুলাই বাড়ি থেকে একসঙ্গে বের হন তারা। এরপর থেকে ছিলেন নিখোঁজ ছিলেন।

শনিবার বিকালে তালার খলিলগর ইউনিয়নের দক্ষিণ নলতা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে শরিফুলের। সেটি এখন তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দোকানটিতে সাইকেল মেরামত করে সংসার চালাতেন শরিফুল। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র।

শরিফুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাদের বসতঘরটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। 

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই সকালে স্ত্রী আমেনা বেগম, মেয়ে হাবিবাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন শরিফুল। সিরাজগঞ্জে মেয়ের জামাতার বাড়িতে যাচ্ছিলেন তারা। ওই দিন বিকাল থেকে তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পান স্বজনরা। কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন তারা। 

শরিফুলের বড় ভাই নজরুল মোড়ল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। শরিফুল সাইকেল মেকানিকের কাজ করে সংসার চালায়। কখনও খারাপ কোনও কাজের সঙ্গে জড়িত হয়েছে, এমন তথ্য এলাকার মানুষ দিতে পারবে না। আপনারা খোঁজখবর নিয়ে দেখুন। জঙ্গির যোগসূত্র তো দূরের কথা, এর অর্থও আমরা বুঝি না। আমার ভাইয়ের পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার। 

তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে এই জঙ্গি সন্দেহে সিরাজগঞ্জ থেকে শরিফুলের মেয়ের জামাতা শান্তকে আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে সে কারাগারে। তাকে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করতে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছিল শরিফুল, তার স্ত্রী এবং মেয়ে। এখন তারাও ফেঁসে গেলো। আমরা জানি না, কেন আমার নিরীহ ভাইয়ের পরিবারকে জঙ্গি বলে ফাঁসানো হলো। 

শরিফুল কোনও দলের রাজনীতি করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল মোড়ল বলেন, জাকের পার্টির ভক্ত শরিফুল। প্রতি বছর ওরস হলে যায়। মাঝেমধ্যে আমি যাই ওরসে। এটা তো কোনও রাজনৈতিক দল না। জঙ্গির সঙ্গে আমার ভাইয়ের পরিবারের যোগসূত্র আছে, এটা আমি কখনও বিশ্বাস করি না। তাদের আটকের কথা শুনে আমরা হতভম্ব। 

ওই পরিবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তালা থানার ওসি রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছি না। তবে আমরা পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। 

এর আগে শনিবার সকালে কুলাউড়ার পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্রিউলি গ্রামের ওই বাড়িতে রাতভর অভিযান শেষে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান। আটক ১০ জনের মধ্যে চার জন পুরুষ ও ছয় জন নারী। তাদের সঙ্গে তিন শিশুও রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আটক ব্যক্তিরা ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’ নামের নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। ওই বাড়ি থেকে বিস্ফোরক ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিটিটিসি ও কুলাউড়া থানা-পুলিশের একটি দল পূর্ব টাট্রিউলি গ্রামের ওই বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করে। শনিবার সকালে অভিযান শেষে আটক ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিটিটিসির সোয়াত টিমের এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন হিল সাইড’।