বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আয়ে ঘাটতি ২৭৬ কোটি টাকা

nonameচলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) প্রথম সাত মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউজ থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আহরণ হয়েছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর প্রথম সাত মাসে (জুলাই ২০১৫ থেকে জানুয়ারি-২০১৬) এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১ হাজার ৪৯৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ফলে এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা কম আহরণ হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার পেছনে আমদানি পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধি ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের নানামুখি হয়রানিকে দায়ি করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, মূলত: কাস্টমস কর্মকর্তাদের হয়রানির কারণে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানিতে অন্যবন্দর ব্যবহার করছেন।

আর যশোর চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভয় এখনও রয়েছে। ফলে তারা আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না।

জানা গেছে,বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আগে প্রতিদিন ৫শ’ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে এর পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কাস্টমসের হিসাব মতে, গত ৬ মাসে প্রায় ১০ হাজার টন পণ্য কম আমদানি হয়েছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ নুরুজ্জামান জানান, মূলত: আমদানি কমে যাওয়ার কারণে রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই আমদানি পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধি এবং এইচএস কোড পরিবর্তন করায় গত সাত মাসে রাজস্ব আদায় কমেছে।

জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার এএফএম  আব্দুল্লাহ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,বেনাপোল কাস্টমসের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ঘাটতি পূরণ সম্ভব।

/এসএনএইচ/এমপি/এমএসএম/