‘যেখানে বিএনপি-জামায়াত আগুন-সন্ত্রাস করবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ‌‘দেশে আবারও আগুন-সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। যেখানে বিএনপি-জামায়াত আগুন-সন্ত্রাস ও নাশকতার চেষ্টা করবে সেখানেই আওয়ামী লীগ যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করবে। তাদের রক্ষা করার সুযোগ দেবো না। যারা দেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধির পথকে বাধাগ্রস্ত করবে, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের পাড়ায়-মহল্লায় নজরদারি বাড়াতে হবে।’

মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির আগুন-সন্ত্রাস, পুলিশ হত্যা এবং সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ এ সমাবেশের আয়োজন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘নির্বাচন কাছে চলে এসেছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা জাগ্রত হয়েছে। তারা দেশের উন্নয়ন থামিয়ে দিতে চায়। সে কারণে আগুন-সন্ত্রাসে নেমে পড়েছে। তারা যাতে আর কোনও নাশকতা করতে না পারে, সে লক্ষ্যে নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবেন। এলাকায় পাহারা বাড়াতে হবে। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। আমরাও ঘর থেকে নেমে পড়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন শেষ করেই ঘরে ফিরবো।’

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত যে হাত দিয়ে গাড়ি পোড়াবে, তাদের সে হাত পুড়িয়ে দিতে হবে। পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি-জামায়াতকে আগামী দিনে রাজপথে নামতে দেওয়া যাবে না। কাল থেকে এ অঞ্চলে একটা গাড়িতে যদি কেউ হাত দেয়, গাড়িতে মানুষকে পুড়িয়ে মারে, ঘর থেকে বিএনপি নেতাদের ধরে এনে পুলিশে দেবেন।’

সমাবশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর মির্জা ফখরুল ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে রূপ নিয়েছে। তিনি এখন জেলে বসে ভকম খাচ্ছেন। গদিতে বসতে পারেন নাই। তারা চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল, এদেশে শুধু বিএনপি থাকবে, আওয়ামী লীগ থাকবে না। আমরা বলেছিলাম, ২৮ তারিখের পর বিএনপি থাকবে না। আমাদের কথায় ঠিক হয়েছে। এখন মাঠে খুঁজেও বিএনপি পাওয়া যাচ্ছে না।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও সদস্য নির্মল কুমার চ্যাটার্জি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, সহসভাপতি হায়দার গণী খান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোৎস্নাআরা মিলি, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী প্রমুখ।