খুলনার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে আয় ও সম্পদের শীর্ষে আছেন খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আবদুস সালাম মুর্শেদী। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন খুলনা-২ আসনের প্রার্থী সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল। সবচেয়ে কম সম্পদ ও আয় খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী মো. রশীদুজ্জামান মোড়লের। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে, গত কয়েকটি নির্বাচনের হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে আবদুস সালাম মুর্শেদীর ১৩৭ কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে। একই সময়ে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের বার্ষিক আয় বেড়েছে চার কোটি টাকা। গত ১০ বছরে নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বার্ষিক আয় বেড়েছে ১৪ লাখ টাকা। আর গত ১০ বছরে ননী গোপাল মণ্ডলের আয় বেড়েছে ১০ লাখ টাকা।
আবদুস সালাম মুর্শেদীর হলফনামা
খুলনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া এই প্রার্থী এবারের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার বার্ষিক আয় আট কোটি দুই লাখ টাকা। তার স্ত্রীর আয় এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বর্তমানে সালাম মুর্শেদীর ১৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া তার স্ত্রীর ১৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকার এবং নির্ভরশীলের ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
হলফনামায় নিজেকে পাবলিক-প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পোশাক শিল্প, বস্ত্র শিল্প, ব্যাংক, হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস। তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নেই। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে হাতে নগদ ২৯ লাখ ৫৩ হাজার, ব্যাংকে জমা রয়েছে চার কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার। গাড়ি, গৃহ সম্পত্তি ছাড়াও অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের ভবন।
ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে সাত কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে এক কোটি ৮৬ লাখ নগদ টাকা, ব্যাংকে ১৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং আট কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। অন্যান্য সম্পদ রয়েছে সাত কোটি ৩৩ লাখ টাকা মূল্যের।
২০১৮ সালের নির্বাচনে সালাম মুর্শেদীর জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্য ছিল, বাসা ভাড়া, ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে ৪৭ লাখ টাকা আয় করতেন। হলফনামায় তিনি ৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দিয়েছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পদ দেখিয়েছিলেন ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার। বছরে নিজের আয় ছিল পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে তার আয় ছিল ১৫ লাখ ৯২ হাজার টাকা। তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয় ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে নিজের আয় ছিল দুই কোটি ৬৮ লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের আয় ছিল ১৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে নিজের আয় ছিল দুই কোটি ৮৯ লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের আয় ৪৭ লাখ টাকা।
সালাম মুর্শেদীর স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল একটি ভবন, যার মূল্য ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে ছিল একটি ভবন, মূল্য ৩৪ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল নিজের নামে নগদ সাড়ে ১৩ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে চার লাখ টাকা; নির্ভরশীলদের নামে এক লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা ছিল তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকা; স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা ও নির্ভরশীলদের নামে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। কোম্পানির শেয়ার ছিল নিজের নামে ৬৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার; স্ত্রীর নামে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার; নির্ভরশীলদের নামে ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। সোনা ছিল নিজের সাড়ে ৯ হাজার টাকার এবং স্ত্রীর চার লাখ ২৫ হাজার টাকার। আসবাবের মূল্য ছিল ৩০ হাজার টাকা। অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ ছিল নিজের নামে পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে এক কোটি ২৮ লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজের ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না। তাঁর ব্যবহৃত গাড়ির দাম দেখানো ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা।
সেখ জুয়েলের হলফনামা
খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপির হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় সাত কোটি ২৮ লাখ টাকা। শেখ জুয়েল মেসার্স আজমীর নেভিগেশন এবং মেসার্স ফারদিন ফিশের মালিক। বার্ষিক আয়ের মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে তিনি চার লাখ ৩৩ হাজার, ব্যবসা থেকে তিন কোটি ২৩ লাখ, শেয়ার থেকে তিন কোটি ১৪ লাখ ও ব্যাংক থেকে মুনাফা ৬০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আয় করেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ রয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার, ব্যাংকে জমা ১৩ কোটি ৬৪ লাখ, এক কোটি টাকার এফডিআর, তিনটি কোম্পানির শেয়ার আছে ২১ কোটি ৬৯ লাখ, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং কার্গো ব্যবসায় তার বিনিয়োগ ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে পূর্বাচল নিউ টাউনে ১০ কাঠা জমি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাতটি এবং খুলনার দিঘলিয়ায় দশমিক ৩৮ একর জমি রয়েছে এবং ঢাকায় তিনটি ফ্লাটের মালিক তিনি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের তথ্য ছিল, বার্ষিক আয় তিন কোটি ২০ লাখ ২৯ হাজার ৪০৫ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪০৪ টাকা, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় তিন লাখ ৯০ হাজার, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত (ডিভিডেন্ড) থেকে এক কোটি ৮০ লাখ, ব্যাংক মুনাফা ২৬ লাখ ৭০ হাজার এক এবং মিটিং ফিশ বাবদ ৬৪ হাজার টাকা বার্ষিক আয় তার। নির্ভরশীলদের বাড়ি ভাড়া, ডিভিডেন্ড, ব্যাংক মুনাফা ও অন্যান্য খাতে বার্ষিক আয় দুই কোটি ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৯০৯ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ আট কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর চার কোটি ৫০ লাখ ২৮ হাজার ১১৩ ও তার ওপর নির্ভরশীলদের এক লাখ ৩ হাজার ৬৬৭ টাকা রয়েছে। তার নিজের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে দুই কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৩ টাকা আর স্ত্রীর নামে ব্যাংক হিসাবে রয়েছে দুই কোটি ২৫ লাখ পাঁচ হাজার ৮১৫ টাকা। তিনটি কোম্পানিতে তার শেয়ার রয়েছে ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর শেয়ার রয়েছে ২০ কোটি টাকা। তাছাড়া পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে তার বিনিয়োগ রয়েছে চার কোটি ২৭ লাখ এক হাজার ৩৮২ টাকা এবং তার স্ত্রীর দুই কোটি ৮৫ লাখ ছয় হাজার ৬৮৩ টাকা। এ ছাড়া তার স্ত্রীর বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণী (পরিমাণ, অর্জনকালীন সময়ের মূল্য) এক কোটি সাত লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত তিন লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ রয়েছে। তাছাড়া শেখ সালাহ উদ্দিনের সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, চার লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং অন্যান্য (কার্গো ও ফিসিং ট্রলার) বিনিয়োগ রয়েছে ৩০ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮০ টাকা।
আর স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার এক কোটি ছয় লাখ ৯৭ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি রয়েছে। আর এক কোটি পাঁচ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি রয়েছে তার। তার স্ত্রীর ৩১ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং এক কোটি ৩৯ লাখ ছয় হাজার ৬৩৫ টাকা মূল্যের দালান রয়েছে। বেসিক ব্যাংকে তার দায় রয়েছে ২৯ কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬২ টাকা।
নির্ভরশীলসহ এস এম কামালের বার্ষিক আয় ৭৭ লাখ টাকা
খুলনা-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে বছরে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এফডিআর ও ব্যাংক থেকে লভ্যাংশ পান ১৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। তিনি মাস্টার্স উত্তীর্ণ। তার বিরুদ্ধে জরুরি বিধিমালায় একটি মামলা ছিল। সেটিতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়েছিল পুলিশ। তার পেশা ব্যবসা।
হলফনামার তথ্যে জানা গেছে, কামাল হোসেনের ওপর নির্ভরশীলদের আয় বছরে (ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী) ৩০ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। কামাল হোসেনের সম্পদ রয়েছে মোট চার কোটি ৯০ লাখ টাকার। এর মধ্যে ২০ লাখ ১৭ হাজার নগদ, ব্যাংকে জমা ২৮ লাখ ৬৩ হাজার, তিন কোটি ৪৫ লাখ স্থায়ী আমানত, ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, গৃহস্থালি দ্রব্য এবং ব্যবসার মূলধন তিন লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৮১ দশমিক ৮৪ ডেসিমেল কৃষি জমি, তিন কাঠা অকৃষি জমি এবং ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দামের একটি দোকান রয়েছে। কামাল হোসেনের স্ত্রী শিক্ষকতা পেশায় জড়িত। তার সম্পদ রয়েছে তিন কোটি ৯৬ লাখ টাকার।
এর মধ্যে এক কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি ফ্লাট, ৩৫ লাখ ২৮ হাজার নগদ টাকা, ব্যাংক জমা ২৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, এক কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। তার ছেলে-মেয়ের যৌথ নামে একটি ফ্লাট ছাড়াও তাদের ৭৭ লাখ ৪২ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
১০ বছরে ননী গোপালের আয় বেড়েছে ১০ লাখ টাকা
খুলনা-১ আসনে ননী গোপাল মন্ডলের হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। আয়ের পুরোটাই আসে কৃষি খাত থেকে। ননী গোপাল মন্ডল বিএ পাস। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল। একটিতে তিনি খালাস, অন্যটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন। ধান, তরমুজ ও মাছ উৎপাদন ও বিক্রিকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ননী গোপালের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ ৩০ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে রয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া ১৫ ভরি সোনার মালিক তিনি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে পৈতৃক সূত্রে চার দশমিক ১৮ একর কৃষি জমি ছাড়াও ছোট ছোট ভাগে আরও অনেক কৃষি জমি রয়েছে তার। এ ছাড়া ১০ কাঠা অকৃষি জমি, ৬৬ শতক জমিসহ একটি ভবন, ৩২ শতক জমির ওপর পৈতৃক বাড়ি, সাড়ে তিন একর আয়তনের একটি মৎস্য খামারের মালিক তিনি। তার স্ত্রীর নামে কৃষি জমি রয়েছে তিন দশমিক ৩৪ একর।
২০১৩ সালের হলফনামা অনুযায়ী ননী গোপাল মন্ডলের বার্ষিক আয় ছিল কৃষি খাতে ৩০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে দেড় লাখ টাকা, সম্মানী চার লাখ টাকা, মৎস্য খামার থেকে দুই লাখ টাকা।
২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী ননী গোপালের বার্ষিক আয় ছিল কৃষি খাতে ২৮ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা, সম্মানী ১৮ হাজার টাকা (কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান), মৎস্য খামার থেকে দেড় লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি।
১০ বছরে নারায়ণ চন্দ্র চন্দের বার্ষিক আয় বেড়েছে ১৪ লাখ
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দর হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি বছর কৃষি খাত থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা, ইট ভাটার ব্যবসা থেকে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা হিসেবে ছয় লাখ ৬০ হাজার আয় করেন তিনি। তিনি এম এ পাস। তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা ছিল। কৃষি ও ইটভাটার ব্যবসাকে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ২৭ লাখ টাকা। সম্পদের মধ্যে তার কাছে নগদ আট লাখ ৭৭ হাজার, ব্যাংকে জমা ৫৫ লাখ, ৪ দশমিক ১৭ একর কৃষি জমি, কিছু অকৃষি জমি, একটি দালান ও একটি সেমিপাকা ভবন রয়েছে। ব্যাংকে তার ঋণ এক কোটি ৯৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
২০১৮ সালের হলফনামায় নারায়ণ চন্দ্র অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়েছেন, তার কাছে টাকা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর ছিল ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রীর নগদ টাকা ছিল ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৬১ টাকা। আর স্ত্রীর ছিল ১১ লাখ টাকা। স্ত্রীর ছিল ১৫ ভরি সোনা। ২০১৮ সালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেপি ব্রিকস থেকে বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে আট লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে তার ব্যাংক ঋণ দেখিয়েছিলেন ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৮ টাকা। পাশাপাশি ৩৫ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ধার ছিল। এ ছাড়া কৃষিজমি ছিল চার দশমিক ১৭ একর। তার স্ত্রীর নামে ছিল দুই দশমিক ৭০ একর। অকৃষি জমি ছিল দশমিক ৬৫ একর। ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি দালান ছিল তার।
২০১৩ সালের হলফনামায় নারায়ণ চন্দ্র বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন পাঁচ লাখ ২৮ হাজার টাকা (এমপি হিসেবে পারিতোষিক বাদে)। মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক বাদে বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রতি বছর পারিতোষিক পেয়েছিলেন ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নারায়ণ চন্দ্রের কাছে টাকা ছিল তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর ছিল সাত হাজার ৫০০ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রী ও তার নির্ভরশীলদের নামে কোনও টাকা জমা ছিল না। তবে পোস্টাল, বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমনতে বিনিয়োগ ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৯১২ টাকা।
এ ছাড়া তার স্ত্রীর সঞ্চয়পত্র ছিল সাত লাখ টাকার। নিজের পাঁচ ভরি এবং স্ত্রীর ১৫ ভরি সোনা ছিল। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেপি ব্রিকস থেকে ২০১৩ সালে আয় ছিল চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে দেওয়া হলফনামায় কোনও দায়দেনা ছিল না।
স্ত্রীসহ রশীদুজ্জামানের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা
খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী রশীদুজ্জামান মোড়লের হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যবসা থেকে আয় করেন দুই লাখ ৮৮ হাজার টাকা। তিনি এমএ পাস। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে দুটি মামলা ছিল। দুটিতেই তিনি খালাস পেয়েছেন। কৃষি ও ব্যবসাকে আয় হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রী শিক্ষকতা পেশায় জড়িত। তিনি বার্ষিক আয় করেন চার লাখ ৩২ হাজার টাকা।
রশীদুজ্জামান মোড়লের সম্পদের মধ্যে হাতে নগদ দুই লাখ, ব্যাংকে জমা মাত্র ৫০০, দশমিক ৬৬ একর কৃষি জমি, দশমিক ২৪ একর অকৃষি জমি, একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। তার স্ত্রীর রয়েছে তিন দশমিক ছয় একর কৃষি জমি এবং দশমিক ২২ একর অকৃষি জমি।