অবশেষে ঈগল উড়িয়ে দিলেন তিনবারের এমপি

অবশেষে নৌকা মার্কাকে সমর্থন দিয়ে ঈগল উড়িয়ে দিলেন তিনবারের সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। মঙ্গলবার (০২ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন রণজিত কুমার রায়। তার প্রতীক ছিল ঈগল। যদিও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনের পক্ষে কোনও প্রচার-প্রচারণা চালাননি। শেষমেশ নৌকাকে সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেই ভোটের মাঠ থেকে সরে গেলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোর-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এদিন দুপুর থেকে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী রণজিৎ কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাংবাদিকরা। এরপর রণজিৎ কুমার সাংবাদিকদের জানান, নৌকা মার্কাকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার প্রতীক ছিল ঈগল। আমি বরাবরই বলে এসেছি নৌকার বিপক্ষে কখনও নির্বাচন করবো না। সে কারণে প্রতীক বরাদ্দের পরও আমি কোনও প্রকার প্রচারণা চালাইনি।’

বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রাণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রণজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ৯৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৫২০ ভোট। এরপর ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রণজিত কুমার। ওই নির্বাচনে পেয়েছিলেন ৭৬ হাজার ৯৪২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক হুইপ অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব। কলস প্রতীক নিয়ে তিনি পান ৩৬ হাজার ২৮০ ভোট। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন। এবার তিনি ভোট পেয়েছিলেন দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির টিএস আইয়ুব পান ২৫ হাজার ৯১৯ ভোট।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের অ্যাডভোকেট জহুরুল হক, তৃণমূল বিএনপির লে. কর্নেল (অব.) এম শাব্বির আহমেদ (সোনালী আঁশ), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুকৃতি কুমার মন্ডল (নোঙ্গর) ও মিনার প্রতীক নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের ইউনুস আলী। এই আসনে সবচেয়ে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভোটের জন্য কোনও প্রচার-প্রচারণা চালাননি।

নৌকার প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করায় তিনি রায়ের অপেক্ষায় ছিলেন। মঙ্গলবার তার প্রার্থিতা বহাল রাখেন হাইকোর্ট।