যশোরে ভোট গ্রহণে প্রস্তুত প্রশাসন, ছয় আসনে লড়ছেন ২৭ প্রার্থী 

রাত পোহালেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে যশোরের ছয় আসনে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সে ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা আওয়ামী লীগ বলছে, উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে জনগণ কেন্দ্রে যাবে, তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। সে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, যশোরের ছয় আসনে আওয়ামী লীগের ছয় প্রার্থী  ছাড়াও স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দলের ২১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে যশোর-১ আসনে তিন, যশোর-২ আসনে পাঁচ, যশোর-৩ আসনে আট, যশোর-৪ আসনে চার, যশোর-৫ আসনে তিন এবং যশোর-৬ আসনে চার জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। 

ইতোমধ্যে নির্বাচনি পরিবেশ নেই আখ্যা দিয়ে এবং নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন করে ১২ জন ভোটের মাঠ থেকে সরে গেছেন। তারা হলেন যশোর-৪ আসনের তিনবারের এমপি রণজিৎ কুমার রায়, বিএনএমের সুকৃতি কুমার মণ্ডল, যশোর-৫ আসনে তৃণমূল বিএনপির আবু নসর মোহাম্মদ মোস্তফা ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ হালিম। এর আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নেওয়া আওয়ামী লীগের দুই নেতা ‍আমজাদ হোসেন লাভলু ও হুমায়ুন সাদাব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। এছাড়া যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান নৌকার প্রার্থী ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি প্রচারণা শুরুর আগেই জাকের পার্টির পাঁচ প্রার্থী যথাক্রমে যশোর-১ আসনে মো. সবুর খান, যশোর-২ আসনে মো. সাফারুজ্জামান, যশোর-৩ আসনে মো. মহিদুল ইসলাম, যশোর-৪ আসনে লিটন মোল্লা ও যশোর-৬ আসনে মো. সাইদুজ্জামান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। কারণ হিসেবে তাদের বক্তব্য ছিল, ভোট নিয়ে ভোটারদের আগ্রহ নেই। এমন পরিস্থিতিতে তাদের দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের প্রভাব ভোটে পড়বে না। সাধারণ মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে।’

এদিকে, ভোটগ্রহণ উপলক্ষে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে যশোরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাদে অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবরাউল হাসান মজুমদার বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা যশোরের ৮২৫টি কেন্দ্রে ব্যালট ছাড়া সব প্রকার সরঞ্জাম পাঠিয়ে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার (০৭ জানুয়ারি) সকাল ৬টার মধ্যে ব্যালট সব কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সবাই তৎপর রয়েছেন। ভোটাররা যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, যশোরের ছয়টি আসনে প্রথমবার ভোট দেবেন প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণী। সর্বমোট ভোট দেবেন ২৩ লাখ ৪০ হাজার ২২৮ জন। এর মধ্যে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ পুরুষ ও ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩১৪ নারী। এবার ভোটার বেড়েছে দুই লাখ ৪৮ হাজার ৯৪৪ জন। ৮২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য পাঁচ হাজার ২১৭টি ভোট কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে ভোটার ছিল ২০ লাখ ৯১ হাজার ২৮৪। এর মধ্যে পুরুষ ছিল ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৭ এবং নারী ভোটার ছিল ১০ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭ জন।

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী নাবিল আহমেদ রবিবার সকালে যশোর শহরের সেবাসংঘ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহিত কুমার নাথ (ঈগল) যশোর এমএসটিপি স্কুল কেন্দ্রে এবং অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম বাচ্চু (লাঙ্গল) ভোট দেবেন ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজে কেন্দ্রে। বাকি প্রার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।