বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের জ্যাকেট পরে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে নারী ইউপি সদস্যের (মেম্বার) স্বামীসহ দুই ব্যক্তিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে তাদের আদালতে নেওয়া হলে বিচারক জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার শুকদারা এলাকা থেকে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে। আটককৃতরা হলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার ভট্টবালিয়াঘাটা এলাকার মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে আজমল হোসেন (৪৪) এবং খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার সাহেব আলীর ছেলে আরাফাত শেখ (৩০)। এদের মধ্যে আরাফাত কোস্টগার্ডের জ্যাকেট পরা ছিলেন। আজমল হোসেন সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্যের স্বামী।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকালে সিয়াম ও সালমান নামের দুই ভ্যানচালক গ্রাম থেকে ভাঙারি ক্রয় করে ফেরার পথে ভট্টবালিয়াঘাটা ব্রিজের কাছে পৌঁছালে আজমল হোসেন ও আরাফাত গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ভ্যানের গতিরোধ করে এবং বলে, ‘তোদের কাছে চোরাই মাল আছে।’ পরে ভ্যানচালকদের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে ভ্যানচালকদের আটকে রেখে ভ্যানের মালামাল নিয়ে শুকদারা এলাকায় বিক্রি করতে যান। সন্দেহ হলে শুকদারার ব্যবসায়ীরা আজমল ও আরাফাতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আরাফাত দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় ভ্যানচালক সালমানের ভাই রুপসা উপজেলার রামনগর এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল বাদী থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্ত্রী ইউপি সদস্য হওয়ায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন আজমল হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।
বাগেরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ভ্যানচালকদের আটকে মালামাল নিয়ে বিক্রির সময় দুই জনকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে আমরা তাদের আটক করি। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’ এর আগেও তারা বিভিন্ন অপরাধ করেছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।