সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নববধূকে হত্যার পর লাশ হাস
নিহত গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮) পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকার রফিক শেখ’র মেয়ে। এ বছর শিমু রেজা এমপি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। মাত্র দেড় মাস আগে শ্যামনগর উপজেলা সদরের চণ্ডিপুর গ্রামের বাদশা সরদারের ছেলে মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, স্বামীসহ শ্বাশুরি ও ননদ নববধূর ওপর বেশ কিছু দিন ধরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
নিহত গৃহবধূর মামা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিয়ের সময় প্রতিশ্রুতি মতো টাকা ও জিনিসপত্র দেওয়ার পরও সম্প্রতি তার শ্বাশুরি ও ননদসহ জান্নাতুলের স্বামী তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার শ্যামনগর হাসপাতালে তার ভাগ্নির মৃতদেহ ফেলে রফিকুলসহ বাড়ির লোকজন নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পর অজ্ঞাত ফোন পেয়ে তারা হাসপাতালে পৌঁছে লাশ পান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. গোপাল বিশ্বাস জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিহতের স্বামীসহ কয়েক জন মহিলা জরুরি বিভাগে এসে মৃতদেহ রেখে ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় নিহতের স্বামী পরিচয় দানকারী রফিকুল ইসলাম কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জানায় তারা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে জান্নাতুল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে দড়ি ছিঁড়ে পড়ে যাওয়ার শব্দে তারা ঘরে প্রবেশ করে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ডা. গোপাল বিশ্বাসের দাবি গৃহবধূকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আসাদ জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এএ/