যশোরে যুবলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নবাব গ্রেফতার

যশোর সদর উপজেলায় যুবলীগ কর্মী আলী হোসেনকে (৩০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি রবিউল ইসলাম নবাবকে গ্রেফতার করেছে যশোর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৩ জুন) ভোররাতে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত নবাব (৫০) সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি নবাবকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি টিম রবিবার ভোররাতে আশাশুনির বুধহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ে নবাবের মাকে গালিগালাজ করেছিলেন আলী হোসেন। প্রতিশোধ নিতে সহযোগী দীপকের মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে যান এবং গুলি করে হত্যাকাণ্ড ঘটান।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী হোসেন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সদর উপজেলা বাহাদুরপুর গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন তৌহিদ চাকলাদার। তার কর্মী ছিলেন আলী হোসেন। নির্বাচনে বিজয় উপলক্ষে ৬ জুন রাতে উপশহর ই-ব্লক এলাকায় প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। ওই আয়োজন শেষে মোটরসাইকেলে করে আলী হোসেন, তার সহযোগী সোহান হোসেন ও নয়ন একসঙ্গে বাড়িতে ফিরছিলেন। সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার তেঁতুলতলা মোড়ে পৌঁছালে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 

এ ঘটনায় আলী হোসেনের মা আঞ্জু আরা বেগম বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম নবাবকে প্রধান আসামি করে ছয় জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অজ্ঞাত ছয়-সাত জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন নবাবের ভাই সিরাজ (৪০), পাঁচবাড়িয়া গ্রামের একরামুল (৪৫), বাহাদুরপুর গ্রামের টোকন (৪৫), চাঁচড়া ভাতুড়িয়া গ্রামের ইসরাজুল (২৫) ও কিসমত নওয়াপাড়া গ্রামের এনামুল শেখ (২৮)।