সাতক্ষীরায় বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্মুক্ত আলোচনায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অংশ নেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা।
রবিবার (১১ আগস্ট) বিকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ। এসময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকী, সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশরাফুল হক ও সেনাবাহিনী সাতক্ষীরার ক্যাম্প কমান্ডার আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরে উন্মুক্ত আলোচনা অংশ নেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আল ইমরান, বখতিয়ার হোসেন, নাজমুল হোসেন রনি, খাদিজা পারভীন, মোহিনী তাবাচ্ছুম, সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইফতেখার আলী, বিএনপি নেতা তারিকুল হাসান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী, আবুল কাশেম, গোলাম সারোয়ার ও ফারুক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মেজর জেনারেল মাহবুবুর রশীদ সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে দেশ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। আমাদের অনেক ভুল-ভ্রান্তি ছিল। সে কারণে অনেক ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ আজকে এখানে থেকে এসেছে। ছাত্ররা অন্যায়ের প্রতিবাদের পর আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে পুলিশ এবং জনগণের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’
পুলিশ মাঠে না থাকায় অনেক অপরাধী এই সুযোগে নানা অপকর্ম করছে বলেও উল্লেখ করেন এই সেনা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। পুলিশ একটি সবার সুন্দরভাবে চলার জন্য শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করে। আমাদের পক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাজ করা কঠিন ব্যাপার। আমরা বিভিন্ন থানায় পুলিশের পাশে আছি তাদের সাহায্য করছি তাদের সাহস দিচ্ছি। সমাজের মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, পুলিশ বাহিনী খুব দ্রুত আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
এসময় অন্য বক্তরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা মন্দির পাহারা দিয়েছি। অন্যায় যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। সে যেই দলের হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবাই এদেশের নাগরিক। আমরা তাদের পাহারা দিচ্ছি। থানা চালু জরুরি, পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সেক্টরের ঘুষ অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত করার দাবি জানানো হয়। তারা পুলিশকে দ্রুত কাজে ফেরারও দাবি জানান। এছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সব প্রকার মামলা প্রত্যাহার এবং খুলনা রোড মোড়ে শহীদ আসিফ চত্বর নামকরণেরও দাবি জানান তারা।