ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পর চেয়ারম্যানদের ‘গণধোলাই’ দিতে বললেন যুবদল নেতা

বাগেরহাটে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতির নেতৃত্বে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে। একইসঙ্গে জেলা প্রেসক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ও দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। একই সময়ে বাগেরহাট পৌরসভায় অবস্থান নিয়েছিলেন যুবদল নেতাকর্মীরা। তবে সেখানে মেয়রের খোঁজ করলেও ভাঙচুরের কোনও ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করেন। তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করেন। সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের ছবিসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর ছবি ও বেশ কিছু দাফতরিক ফাইল বাইরে নিয়ে আসেন। পরে পরিষদের সামনের সড়কের ওপর সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ফকির তারিকুল ইসলাম। ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাংলাদেশের মানুষকে ন্যায়ভিত্তিক সেবা দেওয়ার জন্য আপনারা প্রস্তুত থাকেন। উপজেলায় বিনা ভোটের সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান। যেখানে পাবেন গণধোলাই দেওয়া হবে। উপজেলার ১০ ইউনিয়নের যে সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান, যারা আমাদের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষকে থানা পুলিশে সোপর্দ করে মিথ্যা মামলায় এলাকার সমস্ত মানুষকে জ্বালায়ে অতিষ্ঠ করেছে, তাদের যেখানে পাবেন মারপিট করে আইনের হাতে সোপর্দ করবেন। এ দেশে তাদের স্থান নেই। দেখেন না গণভবনের কী অবস্থা।’ এ সময় আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যানদের প্রতিহত করার নির্দেশ দিয়ে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে পাবেন গণধোলাই দেবেন তাদের।’

এদিকে, দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে আসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন তালিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় ওই নেতাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন কর্মী প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে মুজিব শতবর্ষের লোগো থাকা ফলক ও করিডরে থাকা বেশ কিছু ছবি ভাঙচুর করে বাইরে ফেলে দেন।

সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিক বলেন, ‌দুপুর ১টার দিকে বিএনপির নেতারাসহ শতাধিক লোক প্রেসক্লাবে আসেন। এ সময় প্রেসক্লাব ভবনের দোতলায় ঢুকে করিডর দিয়ে যাওয়ার সময় বিভিন্ন সময়ের ছবি ভাঙচুর শুরু করেন। তারা প্রেসক্লাব ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ছবি, উদ্বোধন, বিদেশ সফর ও অনুদান প্রদানকারীদের ছবি, সভাপতি-সম্পাদকের নামফলক ভাঙচুর করেন। এ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিবাদ জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ টি এম আকরাম হোসেন বলেন, উসকানিমূলক যে বক্তব্যটি এসেছে, সেটি ওই ব্যক্তির নিজের। দলীয়ভাবে এমন বক্তব্যের কোনও সুযোগ নেই। এই বক্তব্যের দায় দল নেবে না। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের ঘটনায় হামলার যথাযথ প্রমাণ ছবি, ভিডিও থাকলে সেটি কেন্দ্রে (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি) পাঠিয়ে অবগত করবো।