বিদ্রোহী প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুলনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। খুলনার ৬৭ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৪২ বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান ২১ চেয়ারম্যানের মধ্যে ১৩ জন বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলীয় প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে মাঠে নেমেছেন তারা।
চাঁদখালী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুনছুর আলী গাজী বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলেও নেতাকর্মীদের সমর্থন না পাওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন অনেকেই।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ কয়েকজন নেতার আধিপত্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণেই বর্তমান চেয়ারম্যানরা দলীয় মনোনয়ন পাননি। পাশাপাশি এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকার পরও মনোনয়ন পাননি অনেক নেতা। এ কারণেই মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য রয়েছে খুলনায়।
বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, কয়রা, ডুমুরিয়া ও দাকোপ উপজেলার সবক’টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বেশ জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর জয়লাভের ব্যাপারে আশঙ্কা রয়েছে।
দাকোপের লাউডোব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সরজিৎ কুমার রায় এবার দলীয় মনোনয়ন পাননি। তিনি বিদ্রোহী হয়েছেন। নৌকা প্রতীক পেয়েছেন যুবলীগ নেতা শেখ যুবরাজ। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী নেই। তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী। এখানেও বিএনপির কোনও প্রার্থী নেই। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন রণজিত কুমার মণ্ডল। দাকোপ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার মোড়ল, সুতারখালীর চেয়ারম্যান গাজী আশরাফ হোসেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী। পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু জাফর সিদ্দিকী রাজু, তেরখাদা উপজেলার আজগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাদশা মল্লিক, বটিয়াঘাটার ভাণ্ডারকোর্ট ইউনিয়নের ইসমাইল হোসেন বাবু, দিঘলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার আলী, কয়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিজয় সরদার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।
দেলুটী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রিপন মণ্ডল বলেন, দলীয়ভাবে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগে গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ও গোপনে তাদের বিরোধিতা করছেন।
বটিয়াঘাটা সদর ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সমীর কুমার মণ্ডল। এখানে বিদ্রোহী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মণ্ডল। জলমা ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত অনুপ কুমার গোলদারের প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বিদ্রোহী ভগবতি গোলদার। গঙ্গারামপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া শেখ হাদী উজ্জামানের বিপক্ষে রয়েছেন দুজন বিদ্রোহী। এরা হলেন, রামপ্রসাদ রায় ও রণজিৎ কুমার মণ্ডল।
সুরখালী ইউপিতে নানা বিতর্কের মধ্যে নৌকা প্রতীক পাওয়া আবদুল হাদী সরদারের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক মুশফিকুর রহমান সাগর। ভাণ্ডারকোট ইউপিতে দলীয় প্রার্থী অহিদুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী ইসমাইল হোসেন বাবু। বলিয়াডাঙ্গা ইউপিতে আসাবুর রহমান আসাবের প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বিদ্রোহী শেখ রাসেল এবং আমীরপুর ইউপিতে মিজানুর রহমান মিজানের বিপক্ষে আছেন বিদ্রোহী হুজ্জাত হোসেন।
পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন বলেন, ‘ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী তার বিরোধিতা শুধু নয় বরং তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করছেন।’
পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে নিজেদের ভেতরে নানা কারণে মতবিরোধ থাকতেই পারে। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কোনও নেতাকর্মী কাজ করছেন এমন অভিযোগ আমার জানা নেই। যদি কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা জানান, তৃণমূলের সুপারিশে অধিকাংশই মনোনয়ন পাননি। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এর ফলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
/বিটি/এসটি/