চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে সদর থানা পুলিশ ওই নেতাকে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতার বিশ্বজিৎ সাহা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের কুকিয়া চাঁদপুর গ্রামের সন্তোষ সাহার ছেলে। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্বজিৎ সাহা বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহর থেকে গ্রামের বাড়ি কুকিয়া চাঁদপুর ফিরছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে বেলগাছি রেলগেটে পৌঁছালে সেখানে আফজাল হোসেন ও তার অনুসারীরা বিশ্বজিৎকে দাঁড় করিয়ে মারধর করেন। পরে বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সিরাজুলই পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলীসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশ্বজিৎ সাহাকে উদ্ধার করে। এরপর তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর থানায় নিয়ে আগে দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের শ্যালক জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আরশাদ উদ্দিনকে হারিয়ে বিশ্বজিৎ সাহা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সাহা, আরশাদ উদ্দিনসহ একদল লোক গত ২৪ জুন আফজাল হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তারা আফজালকে তুলে নিয়ে যান। মারধরের পর দর-কষাকষি শেষে নগদ ৫০ হাজার টাকা নগদ দেন আফজাল। পরে আরও ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে একটি স্ট্যাম্প কাগজেও স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আফজাল হোসেন বাদী হয়ে বিশ্বজিৎ সাহা, আরশাদ উদ্দিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২৭ আগস্ট সদর থানায় চাঁদাবাজির একটি মামলা করেন।
আফজাল হোসেনের দাবি, বিশ্বজিতের নামে মামলার পরও গ্রেফতার করছিল না পুলিশ। যে কারণে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সময় চেয়ারম্যানের ওপর যারা বিক্ষুব্ধ ছিল, তারা মারধর করেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বজিৎ সাহাকে গাড়াবাড়িয়ার আফজাল হোসেনের করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।