বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শেখ হাসিনার নামে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুইশর বেশি মামলা হয়েছে। যে ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা বিচার দিয়ে আমাদের নেতাদের ফাঁসি দিয়েছিলেন, সেই ট্রাইব্যুনালে আপনাদের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আপনারা তো মাওলানা নিজামী, আল্লামা সাঈদী ও মুজাহিদদের বিচার করতে গিয়ে মিথ্যা গাল-গল্প, মিথ্যা এজাহার, মিথ্যা বাদী, মিথ্যা বিচারক বানিয়ে ফাঁসি দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ফাঁসি দিতে মিথ্যা লাগবে না। সত্য ঘটনা দিয়ে শতবার তাকে ফাঁসি দেওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েই প্রমাণ করেছেন, তিনি অপরাধী।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় খুলনা মহানগরীর শিল্পাঞ্চল খালিশপুর বিআইডিসি রোডে অবস্থিত শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ওদের হাতে গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যম কিছুই নিরাপদ নয়। যে কারণে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিস্ফোরণের মুখে তাকে (শেখ হাসিনা) এমনভাবে পালিয়ে যেতে হয়েছিল যে, দুপুরের খাবার খাওয়ারও সুযোগ পাননি। লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষের খাবার কেড়ে নিয়ে, মিল বন্ধ করে দিয়ে তাদের বেকার করে যে অপরাধ শেখ হাসিনা করেছেন, তার ফল তাকে ভোগ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত পনের বছরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। খালিশপুরের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অফিস জ্বালিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগের কাছে এদেশের কোনও মানুষই নিরাপদ নয়। সর্বশেষ জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করে শেখ হাসিনা নিজেই নিষিদ্ধ হয়েছেন। দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। সুতরাং আল্লাহর ইচ্ছার ওপর কারও ইচ্ছা যে পূরণ হয় না সেটিই এর বড় প্রমাণ।
সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, যেখানকার মাল সেখানেই চলে গেছেন। এখন মানবাতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ইন্টারপোলে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা খুব সাবধানে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনি প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি সৎ সাহসী হন, এতো উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে থাকেন, তাহলে ৫ আগস্টের পর আপনারা কেন পালিয়ে গেলেন। ৩০০ আসনের এমপি একজনকেও খুঁজে পাওয়া গেল না। পালালো কেন? পালায় কারা? পালায় চোর, ডাকাত ও খুনিরা। যারা সত্যের পথে থাকে তারা কখনও পালায় না। অপনারা পালিয়ে প্রমাণ করেছেন, আপনারা অপরাধ করেছেন। জাতির কাছে ক্ষমা চান। তাদের কারণে গত ১৫ বছর জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বাড়ি-ঘরে থাকতে পারেনি। এ বাড়ি, সে বাড়ি, আগানে-বাগানে, বিলে-খালে পালিয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন।
তিনি বলেন, অপনাদের হাতে দেশের মানুষের গণতন্ত্র-স্বাধীনতা, মূল্যবোধ, ভোটাধিকার কোনও কিছুই নিরাপদ ছিল না। মানুষ ১৪, ১৮ ও ২৪ এর নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। আপনারা ভেবেছিলেন কর্তৃত্ববাদী শাসন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। বিএনপি-জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধীদের পুলিশ দিয়ে, মামলা দিয়ে, গ্রেফতার করে, হত্যা করে আন্দোলনকে বারবার ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র সমাজ, রংপুরের আবু সাঈদের মতো হাসিনার বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে বললো, হাসিনা তুমি পরাজিত। বাংলাদেশের আবু সাঈদরা বিজয়ী হয়ে গেলো। রক্তের স্রোতের ওপর দাড়িয়ে আমরা মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করছি। এই আন্দোলনে ১৭০০ মানুষ জীবন দিলো। ৪০ হাজার লোক আহত হয়েছে। হাত, পা, চোখ, কান হারিয়ে অনেকেই চিকিৎসা করাতে পারছে না। এই আত্মদান ও রক্তদানের ঋণ আমাদের শোধ করতেই হবে।
খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মাস্টার শফিকুল আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান।