চায়না জিও কোম্পানি

বেতন বৃদ্ধির দাবির জবাবে ম্যানেজার বললেন ‘বাড়ি চলে যাও’, চলছে কর্মবিরতি

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন চায়না জিও ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন কোম্পানির শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় নগরীর লবণচরা থানা-সংলগ্ন চায়না জিও কোম্পানির সামনে শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- ড্রাইভার/অপারেটরদের বেসিক বেতনের সঙ্গে বাজারদর বিবেচনা করে বেতন বৃদ্ধি, মাসে দু-দিন বেতন বহাল রেখে ছুটি প্রদান, বিনা কারণে কোনও শ্রমিককে বহিষ্কার করলে ন্যূনতম ৩ মাসের বেতন-ভাতা প্রদান, প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্য সময় দেওয়া, দুই ঈদে ছুটির আগে বেতনের ৫০ ভাগ বেতন/বোনাস প্রদান করা ও মিস্ত্রি, লেবার ও পিকআপ ড্রাইভারদের মজুরি বৃদ্ধি করা। 

মানববন্ধনকালে শ্রমিকরা বলেন, ‘৮ ঘণ্টা ডিউটি করে শ্রেণিভেদে ২৬০ টাকা থেকে ৩৯০ টাকা একজন শ্রমিকের মজুরি, একজন ড্রাইভার ৮ ঘণ্টা ডিউটি করলে তার কমপক্ষে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা খরচ আছে। তাহলে সেই ড্রাইভার তার পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবে কীভাবে? আমরা কয়েক বছর যাবৎ এখানে চাকরি করে আসছি। কিন্তু আমাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি হয় না। বাজারদরের কথা চিন্তা করে প্রজেক্ট ম্যানেজারের নিকট কয়েকবার দাবি জানালেও তিনি কোনও কর্ণপাত করেননি। শুধু বলেন, “বাড়ি চলে যাও”। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।’

প্রজেক্টের চালক মো. আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমরা বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর দু-দফায় লিখিতভাবে অফিস প্রধানকে জানাই। কিন্তু তিনি বলেন, “এই বেতনে চাকরি করলে করেন, নইলে বাড়ি যান”। এরপর নেতৃত্ব দেওয়া ৪ জনকে বলেন, “বাড়ি চলে যাও।” এর ফলে আমরা ৮০ জন চালকসহ সহস্রাধিক শ্রমিক এক হয়ে সিদ্ধান্ত নিই বাড়ি যেতে হলে সবাই যাবো। তাই ৪ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করি।

চায়না জিও কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার ওয়াং বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি কর্তৃপক্ষ দেখবেন। এটা আমার হাতে নেই।’ একই প্রজেক্টে কর্মরত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার শ্রমিকরা একরকম বেতন না পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ঢাকা আর চট্টগ্রামের চেয়ে খুলনায় খরচ কম হয়, তাই শ্রমিকরা কম বেতন পান।’