যশোরে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

‘গণমাধ্যমের রূপ ধরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে’

প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের তথাকথিত গণমাধ্যমের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাংবাদিক নেতা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। গণমাধ্যমের রূপ ধরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখতে হবে আমাদের।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন, আমাদের পক্ষ থেকে সর্বস্তরে সেই আওয়াজ পৌঁছে দিতে হবে। দেশ নিয়ে যে অপপ্রচার, মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো, সঠিক জবাব দেবো। দেশের পক্ষে মানুষের পক্ষে গণতন্ত্রের পক্ষে এবং ভোটাধিকারের পক্ষে আমাদের সবার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) দুপুরে যশোর সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা ও কল্যাণে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির চেক বিতরণ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, ‘একজন সাংবাদিক সারা জীবন মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা লিখতে লিখতে নিজেরাই বৈষম্যের শিকার হন। মানুষের অধিকার নিয়ে লিখতে লিখতে শেষ বয়সে দেখা যায় তিনি নিজেই অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। যখন তার চাকরির সক্ষমতা থাকে না, বিছানায় পড়ে যান। তখন ওষুধপত্র খাওয়ার মতো অর্থ থাকে না। সেই সময় যদি অল্প হলেও ওষুধপত্র খাওয়ার জন্য কিছু অর্থ তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায় তাহলে অনেক বড় উপকার হয়। বিষয়টি তথ্য উপদেষ্টাকে অবহিত করা হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হন এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন।’

মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আগামী বছর থেকেই আমরা এই ভাতার ব্যবস্থাটা করতে পারবো বলে আশা করছি। সাংবাদিকদের অনুদানের পাশাপাশি যাতে তাদের সন্তানরা ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা যাদের প্রয়োজন সেসব সাংবাদিকের দুজন সন্তানকে মাসিক অথবা এককালীন বৃত্তির ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী জানুয়ারি মাসেই যেন তারা সেই সুবিধা পেতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিয়েছি।’

আগে ট্রাস্টের টাকা লুটপাট হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগের সরকার কল্যাণ ট্রাস্টের বিতরণযোগ্য ফান্ড একদম নিঃশেষ করে রেখে গেছে। আগস্ট বিপ্লবের আগে জুলাই মাসেই তারা বিপুল অংকের অর্থ বিতরণ করে তালিকা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। নীতি নৈতিকতার কোনও বালাই ছিল না সেখানে। তারা একেকজনকে দুই লাখ তিন লাখ করে টাকা দিয়ে একদম ফান্ড শেষ করে ফেলে।’ 

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক  কল্যাণ ট্রাস্টের উপপরিচালক এ বি এম রফিকুল ইসলাম, জেলার সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, প্রাচ্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক বেনজীন খান, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি নুর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ জামান ও বিএফইউজের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু প্রমুখ।

সভায় জুলাই-আগস্টে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর জেলার ৩০ জন সাংবাদিকের মাঝে অর্থ সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।