পঞ্চগড়ে টানা তিন দিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, বেড়েছে শীতজনিত রোগ

শীতে কাঁপছে ‘হিমালয়কন্যা’ খ্যাত পঞ্চগড় জেলা। টানা তিন ধরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ঠান্ডা আর হিমালয়ের হিমশীতল হাওয়ায় বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পড়েছে উত্তরের এ জেলা। তবে সকাল ১০টার পর থেকে রোদের স্পর্শে হারিয়ে যায় রাতভর শীতের তাণ্ডব।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। এর আগে, ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিন ধরে টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পড়েছে সীমান্তবর্তী জেলার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, গত তিন ধরে রাতে মনে হচ্ছে তাপমাত্রা যেন জিরোতে নেমে আসছে। এত ঠান্ডা, গায়ে চার-পাঁচটা কাপড় পরলেও শরীর গরম হচ্ছে না। এ অঞ্চলের নিকটস্থ হিমালয় পর্বত কাছাকাছি থাকায় পাহাড়ি বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা কয়েকগুণ বেশি। খেটে খাওয়া মানুষদের বেড়েছে দুর্ভোগ। তিন দিন ধরে তীব্র শীত হলেও সকাল ১০টার পর রোদের কারণে শীতের প্রভাব থাকছে না। তবে কৃষকরা টানা শীত ও কুয়াশার কারণে রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

সকাল ৯টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কৃষিশ্রমিক সরেন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘রাতিত কুপে (খুবই) ঠান্ডা আছিল। এ্যালা দেখেচু সকালে ভালয় রোদ উঠিচে। এ্যালা আর ঠান্ডা নাগে না। এই রকম রোদ থাকিলে হামার কাজকাম করিতে সুবিদা।’

মনিরুল ইসলাম নামের অপর একজন শ্রমিক বলেন, ‘কয় দিন তকা (থেকে) তো সকালে তো ভালয় রোদ উঠেচে। কিন্তু বিকাল হইতে না হইতে একাখান বাতাস আসে কাবু করে দেছে। সারা রাতি যে ঠান্ডা বাইর হইলে শরীরটা কাঁপেছে।’

শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা অসুখে। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা ছুটছেন হাসপাতালে। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারাই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

জেলার প্রথম শ্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, রবিবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি ও শুক্রবার সকাল ৯টায় দেশের ও মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত তিন দিন ধরে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।’