গ্রেফতার এড়াতে জাহাজে চাকরি, সেখান থেকে কারাগারে ছাত্রলীগ নেতা

মাগুরায় হত্যা মামলায় গ্রেফতার এড়াতে জাহাজে চাকরি নেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বিকালে তাকে খুলনার ফুলতলা থানার শিকিরহাট কয়লাঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি (৩৪) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ হোসেন (২২) নিহতের ঘটনায় হওয়া দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে পুলিশ ওই ছাত্রলীগ নেতাকে মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

গ্রেফতার ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম রাকিব শিকদার। তিনি মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মাগুরা পৌরসভার বরুনাতৈল গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি ও ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার ১২ নম্বর আসামি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী এহসানুল হক জানান, রাকিব নামের ওই আসামি ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান। গ্রেফতার এড়াতে তিনি জাহাজে চাকরি নেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ঘাটে নোঙর করা একটি জাহাজ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠান।

মেহেদী হাসান জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মাগুরা পৌরসভার বরুনাতৈল গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে। ৪ আগস্ট মাগুরা শহরের ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, ছাত্রদল নেতা মেহেদী নিহতের ঘটনায় ১৩ আগস্ট তার ভাই ইউনুস আলী বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, বীরেন শিকদারসহ ১৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। এই মামলার অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করা হয় ১৫০-২০০ জনকে।

সূত্রটি আরও জানা যায়, ৪ আগস্ট মেহেদী হাসান নিহতের দেড় ঘণ্টা পর একই জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন। তিনি শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। এ ঘটনায় তার পরিবার কোনও মামলা করেনি। তবে এ ঘটনায় ২১ আগস্ট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন সদর উপজেলার বিরপুর গ্রামের মো. জামাল হোসেন। মামলায় মাগুরা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীরেন শিকদারসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।