সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে টানা কয়েকদিন ধরেই উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলার পদ্ম বেউলা সাইক্লোন শেল্টার স্কুল মাঠে বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
কমিটি গঠনের লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির নির্বাচন কমিশন আগে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আল. আব্দুর রব সভাপতি ও মেম্বার আব্দুর রব সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক পদে দুই জন প্রার্থী হওয়ায় এ দিন সম্মেলনের শুরু থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়।
বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নির্বাচন চলাকালে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি থেকে বঞ্চিতরা সম্মেলনস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও ইট পাটকেল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, রড-লাঠি নিয়ে হামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন পলাশ, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি বকুল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শফি, কল্লোল, দিপু, আশিক, শফিকুল ও আছাফুর এবং অপর পক্ষের উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল আওয়াল ছোট, যুবদল কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রমজান, যুবদল কর্মী আজমিনুরসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। এ সময় সম্মেলন স্থান থেকে সবাইকে সরিয়ে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকা দখলে নেয়। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। তবে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এর আগেও দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আশাশুনি সদর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলন আয়োজনকারীদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, রবিউল আওয়াল ছোট, যুবদলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে আমরা ভোট গ্রহণ করছিলাম। প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে রড, লাঠি, ইটপাটকেল নিয়ে হামলায় সম্মেলন পণ্ড করে দেয়। কর্মী ও জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা ফিরতে বাধ্য হয়। এরপর আমরা পুনরায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শুরু করি, অনেক ভোটার ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু ১৪৪ ধারা জারি করে নেতৃবৃন্দদের নামিয়ে দেওয়া ও ভোট দিতে আসা ভোটারদের তাড়িয়ে দিয়ে সম্মেলন পণ্ড করা দিলো।
উপজেলা বিএনপির আরেক অংশের আহ্বায়ক আসিফুর রহমান তুহিন, সদস্য সচিব জাকির হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আহসান বলেন, ১৬ জানুয়ারি খুলনা বিভাগীয় টিম সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু তারা ১৬ তারিখের আগেই ত্যাগী নেতাদের বাদ রেখে গোপনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নিয়ে কমিটি গঠন করে। আজও একইভাবে সম্মেলন শুরু করা হলে আমাদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ও ঊর্ধ্বতন নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একইসঙ্গে হাবিবুর রহমান হবিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও আগামীতে সম্মেলন আহ্বান করা হলে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে বুধহাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সম্মেলন করছিলাম। অন্য গ্রুপ বাধা দিলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াছির আরাফাত পলাশ, যুবদলের বকুল, শরিফুল, আশিক, কল্লোল, দীপু রমজান আলী, মনিরুল, আজমিনুর, হাশেম আলী, মিঠু আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইয়াছির আরাফাত পলাশকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার ওনি নোমান হোসেন জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মাঠে তৎপর রয়েছি।