যশোরের অভয়নগরে দুবৃর্ত্তদের দেওয়া আগুনে মতুয়া সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর পরিদর্শন করেছেন ঢাকার একটি নাগরিক প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (৩ জুন) দুপুরে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন বাড়িঘর পরিদর্শন ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শোনেন।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদল হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলামের বাড়িও পরিদর্শন করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, নারী ঐক্য পরিষদের সভানেত্রী সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীল, অধিকার কর্মী এবং আইপিনিউজের নির্বাহী সম্পাদক সতেজ চাকমা। প্রতিনিধিদল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘প্রথমত যে কৃষকদল নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিন্দনীয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই নিন্দনীয় ঘটনার পর যে গইরব ও নিরীহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, লুঠপাট, অগ্নিসংযোগ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তা খুবই নির্মম। আমরা লক্ষ্য করেছি, হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী নিরীহ মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, স্থানীয় প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা এবং ত্রাণ দিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনবেন।’
নারী ঐক্য পরিষদের সভানেত্রী সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশের বিগত ৫৩ বছরে ক্ষমতাবান জনগোষ্ঠী সবসময় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করেছে। তবে এ ঘটনা সাম্প্রদায়িক না হলেও আমরা আশা করবো, আক্রান্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন।’
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা দেখলাম যাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তারা এখন সর্বস্বান্ত। আমাদের পর্যবেক্ষণে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি আমরা লক্ষ্য করলাম সে পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা তারা পাচ্ছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে, তা নগণ্য। আমরা আশা করি, প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে।’
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলামের বাড়িঘরও পরিদর্শন করেন নাগরিক প্রতিনিধিদল। নিহতের ভাই এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারা।
এর আগে ২২ মে রাতে যশোরের অভয়নগর ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের মতুয়া ধর্মাবলম্বী পিন্টু বিশ্বাসের বড়িতে উপজেলার পৌর কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘেরের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় অভিযোগ স্বজনদের। এ ঘটনার পর ওই রাতে ক্ষুব্ধ একদল লোক পিল্টু বিশ্বাস ও তার পাশের ১৩টি পরিবারের ১৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আগুন দেওয়ার আগে লুটপাট, ভাঙচুর ও মারধর করা হয়।