সাতক্ষীরায় ‘মব’ সৃষ্টি করে একটি বিদ্যালয়ে ঢুকে এক সহকারী শিক্ষককে মারধর করে বাজারে ঘোরানোর ঘটনায় বিএনপির এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে বল্লীবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রবিবার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক শফিকুর রহমান বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক।
গ্রেফতার ইসলাম কবিরাজ সদরের বল্লী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও বল্লী গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের আট নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
শিক্ষক শফিকুর রহমান জানান, গত শনিবার সকাল ৮টার দিকে বিদ্যালয়ে এসে তিনি বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অতিরিক্ত ক্লাস নেন। রবিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মব সৃষ্টি করে শনিবার সকালে অতিরিক্ত ক্লাসে এক ছাত্রীকে কিছু সময় একা পড়ানোর নামে অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাকে টেনেহিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে এসে মারধর করতে করতে পাশের বাজারে ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণি জানান, ওই শিক্ষক একজন নৈতিকতাহীন মানুষ। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে। একটি অভিযোগের তদন্তও চলছে। রবিবারের জনরোষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তারা।
বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম আক্তার বলেন, রবিবার সকালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কি হয়। ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষককে মারধর করে বাজারে ঘোরানোর প্রতিবাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান শিক্ষক এ কে এম আজারুজ্জামানের সভাপতিত্বে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।
ওসি শামিনুল হক বলেন, ‘শিক্ষককে মারধরের মামলায় ইসলাম কবিরাজকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বেলা ১১টায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।